প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:০৭
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গ্যাসফিল্ডের পরিত্যক্ত একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় পরিত্যক্ত কূপে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে এখান থেকে দৈনিক ৭ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে।
জানা গেছে, হরিপুর গ্যাসফিল্ডের ৭ নম্বর গ্যাসকূপটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ১৪ অক্টোবর সংস্কার করতে গিয়ে ২ হাজার ১০ মিটার গভীরে ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। মঙ্গলবার একই কূপের আরেকটি স্তরে ১ হাজার ২০০ মিটার গভীরতায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।
যোগাযোগ করলে সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ৮ মিলিয়ন ঘন ফুটের মত গ্যাস পাওয়া গেছে বলে ধারণা। পরীক্ষার বিষয়টি শেষ হলেই জানা যাবে, ঠিক কী পরিমাণ গ্যাস সেখানে মজুত রয়েছে। গ্যাস পরীক্ষা করতে আরও সপ্তাহখানেক লাগবে।'
এরআগে গত ২৭ জানুয়ারি সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধীন রশিদপুরের ২ নম্বর কূপে গ্যাসের নতুন স্তরের সন্ধান মেলে। যার পরিমাণ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট। তারও আগে গতবছরের ২৬ নভেম্বর দেশের সবচেয়ে পুরানো গ্যাসক্ষেত্র হরিপুরের ১০ নম্বর কূপে গ্যাসের সন্ধান মেলে। খনন কাজ শেষে ওইদিন গ্যাস প্রাপ্তির তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)। আর ২২ নভেম্বর সিলেটের কৈলাশটিলায় পরিত্যক্ত ২ নং কুপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এখান থেকে দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।
সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৫৫ সালে। এরপর আবিষ্কার হতে থাকে একের পর এক গ্যাসক্ষেত্র। বর্তমানে এসজিএফএল—এর আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। সেগুলো হলো— হরিপুর গ্যাসফিল্ড, রশীদপুর গ্যাসফিল্ড, ছাতক গ্যাসফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড। এর মধ্যে টেংরাটিলায় অবস্থিত ছাতক গ্যাসফিল্ডে ২০০৫ সালে দুই দফা অগিকাণ্ডের জন্য পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।
এসজিএফল সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক সম্পদের সমৃদ্ধ আধার হিসেবে পরিচিত সিলেটে গত বছর থেকেই কূপ অনুসন্ধান ও খননের কাজ চলমান রেখেছে সিলেট গ্যাসফিল্ড কর্তৃপক্ষ। তারই অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে কৈলাশটিলা ৮ নম্বর কূপে খনন কাজ শুরু হয়। প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা খরচে এই কূপ খনন করা হয়। সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের উৎপাদনে থাকা কূপগুলো থেকে এখন প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস । চলতি বছরের মধ্যে আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ করে তারা সেই উৎপাদনকে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নিয়ে যেতে চায়। আর সরকারের বেধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সকল কাজ শেষ করতে পারলে শুধুমাত্র এই কোম্পানি থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ২৫০ মিলিয়ন গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন