প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ২২:১৭
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিসিকের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
দীর্ঘদিন যাবত ভাঙা রাস্তার কারণে ভোগান্তিতে আছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর থেকে ছাত্র হল এবং ছাত্রী হলে যাওয়ার জন্য মাত্র একটি করে রাস্তা এবং সেই রাস্তারই দুরবস্থা। গোল চত্বর থেকে শাহপরান হল পর্যন্ত রাস্তায় পাকা সড়কের অস্তিত্ব বোঝা গেলেও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের রাস্তায় পাকা সড়ক ভেঙে মাটিতেও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আসছে বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে একেকটা মরণফাঁদে পরিণত হবে। সব মিলিয়ে চলাচলযোগ্য রাস্তার পরিমাণের তুলনায় অযোগ্য রাস্তার পরিমাণই বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে নতুন ছাত্র হল, ছাত্রী হল, শিক্ষাভবন, প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নতুন এসব ভবনে যাওয়ার মতো নেই চলাচল উপযোগী রাস্তা। প্রশাসন থেকেও মেরামতের জন্য নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলে, তারা জানায় এটা সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) দায়িত্ব। অন্যদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) জানায় এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে দিন দিন দুরবস্থার দিকে যাচ্ছে সড়কগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর থেকে ছাত্র হলে যাওয়ার রাস্তায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে একটু অসাবধানতায় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। রাতের অন্ধকারে বা দিনের বেলাতে চলতে গিয়ে এসব গর্তে হোঁচট খাওয়া রোজকার ঘটনা।
কয়দিন পরেই আসছে বর্ষা। বৃষ্টির পানিতে তখন ভোগান্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে দ্বিগুণ।
ভোগান্তি সম্পর্কে জানতে কথা হয় শিক্ষার্থীদের সাথে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আহমদ রাস্তার কারণে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, গোল চত্ত্বর থেকে ছেলেদের হলের রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে নিজে চলাচল না করলে বুঝা যাবে না। বিশেষ করে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের রাস্তার অবস্থা খুবই ভয়াবহ। রাস্তায় গর্ত একেকটা ছোট খালের মতো হয়ে গেছে। আসছে বর্ষায় এসব রাস্তায় পানি জমে একেকটা মরণফাঁদে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান। আমরা আশাকরি সেসকল কাজের পাশাপাশি খুব দ্রুততার সাথে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিশামনি সিনহা বলেন, দ্বিতীয় ছাত্রী হলের মোড়ের রাস্তাটি ভাঙা। যার কারণে চলাচলে অসুবিধা হয়। অনেকেই শারিরীকভাবে অসুস্থ্য থাকা অবস্থায় এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় ঝাঁকুনিতে আরো অসুস্থ হয়ে যায়। অন্যদিকে তৃতীয় হল নির্মাণের দুই বছর হতে চললেও এখনো পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয় নি। এর ফলে অটো যেতে চায়না অনেক সময়। তাই প্রশাসনের উচিৎ যাতায়াতের এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।
বিপর্যস্ত এই রাস্তা মেরামতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জিজ্ঞেস করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের রাস্তা মেরামতের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। আমাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে লিখিত ভাবে জানানো সহ কয়েকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে রাস্তা মেরামতের জন্য। সিটি করপোরেশন থেকে পদক্ষেপ নিলে আশা করি দ্রুত মেরামত হবে।
এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের নয়। আইনগতভাবে এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজ। তবুও আমরা এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা ঠিক করে দিয়েছে। এখন পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় করতে পারছি না। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা আছে সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি রাস্তাগুলোও মেরামত করে দেওয়ার।
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন