শাবিপ্রবি

বহিরাগতকাণ্ডে নিরাপত্তাহীন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৫ ০৮:৫০

বহিরাগতদের দ্বারা বিভিন্ন অনৈতিক কাণ্ডে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এসব অপরাধ বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। অপরাধ ঠেকানোর জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও সেসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়তই ঘটছে অপরাধ।
শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে এসেছে বহিরাগতদের দ্বারা ছাত্রীদের ইভটিজিং, টিলায় আগুন লাগা, অতিথি পাখি শিকার এবং মাদক সেবনের মতো গুরুতর অভিযোগ। ২০২২ সালের ২৫ জুলাই টিলায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী বুলবুলের মৃত্যুর ঘটনা এই সমস্যার ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহিরাগতদের দ্বারা বিশেষ করে ছাত্রী হলের রাস্তায় বা হলের আশেপাশে প্রায়ই মেয়েরা ইভটিজিংয়ের শিকার হোন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় ছাত্রী হলের আশেপাশে বহিরাগতদের বিভিন্ন খারাপ অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। এতে করে নিজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।
এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রহিমা পারভীন রুহির। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের ভিতর বহিরাগতদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়া দিন দিন যেনো একটা স্বাভাবিক ঘটনায় রূপ নিচ্ছে। আমরা এমনকি হলের মধ্যেও সেইফ নই। প্রশাসনের উচিৎ দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করা।
এদিকে বিগত কয়েকমাসে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিলাগুলোতে আগুন লাগায় টিলার গাছপালাসহ জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যায়নি এখনো পর্যন্ত। এজন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জনসাধারণের জন্য টিলায় ওঠা সম্পূর্ণ নিষেধ করে দেওয়া হলেও গত ৭ মার্চ আবার শহিদ মিনার সংলগ্ন টিলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে করে সে টিলার প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা পুড়ে যায়। 
এছাড়া মাদক সেবন ও চোরা শিকারিদের চলাফেরাও বেড়েছে ক্যাম্পাসে। এখন পর্যন্ত সীমানা প্রাচীর মেরামত বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের টিলাগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিচরণেও সৃষ্টি হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা।
এ ব্যাপারে অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দ্বারা এসব অনৈতিক কার্যকলাপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে নষ্ট করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। তাই ক্যাম্পাস প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা।
বিনা অনুমতিতে বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্বেও কেনো বার বার এরকম ঘটনা ঘটছে সেই কারণগুলি জানতে গিয়ে কিছু বিষয় সামনে আসে এই প্রতিবেদকের কাছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের দুটি প্রধান ফটকের পাশাপাশি সীমানা প্রাচীরজুড়ে চারটি পকেট গেটে নেই সার্বক্ষণিক নেই কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা। সীমানা প্রাচীরের অধিকাংশ স্থানেই নেই কাঁটাতার। কোথাও আবার দেয়ালের দুই পাশে মাটি ফেলে উঁচু করে বা প্রাচীরের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করা। সীমানা প্রাচীর মেরামতেও প্রশাসনের নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও শাহপরান হলের মসজিদের মতো সীমানা প্রাচীরবিহীন এসব জায়গা দিয়ে অবাদে প্রবেশ করছে দুষ্কৃতকারীরা।
এদিকে স্থানীয় অনেক কৃষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জমি লিজ নিয়ে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ও শাকসবজি চাষাবাদ করেন। পাশাপাশি সপ্তাহিক ছুটির দিনে বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে  পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই ঘুরতে আসেন ক্যাম্পাসে।  কিন্তু কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারীর ফলে প্রশ্নবিদ্য হচ্ছেন তারাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাহীনতার জন্য দায়ী এসব জায়গায় নিরাপত্তাকর্মী না থাকার কারণ জানতে গিয়ে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন আনুমানিক ২৫০ জন। সেই জায়গায় বর্তমানে নিরাপত্তাকর্মী আছেন ১৫৭ জন। এর ফলে ফাকা রাখতে হয় অনেক জায়গা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি অফিসার মোহাম্মদ ফারুক মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সিকিউরিটি গার্ড কোম্পানির চুক্তির মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসায় আমরা নতুন করে নিরাপত্তাকর্মী বাড়াতে পারছিনা। কিন্তু আমরা আশা করছি নতুন কোম্পানির সাথে চুক্তি হলে আমরা নিরাপত্তাকর্মী সংকট দূর করতে পারবো। 
এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, এ সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা খুব শীগ্রই এর জন্য কার্যকরী ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো। মাদকের ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি এবং এই পর্যন্ত যতোগুলো ঘটনা ধরা পড়েছে আমরা প্রত্যেককেই পুলিশে সোপর্দ করেছি। সীমানা প্রাচীর মেরামত করার জন্য আমি ইতিমধ্যে সম্পৃক্ত প্রশাসনের নিকট একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছু কিছু শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতার কারণে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা সবাই যদি সচেতন হয় আমরা আশা করি সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমরা খুব শীগ্রই বসে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।
 

জাতীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার