প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৫ ১৬:৪৩
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের উপর দিয়ে নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও সেখানে বর্তমানে কাজের চেয়ে অকাজই হচ্ছে বেশি। রাস্তা পারাপারের পরিবর্তে মাদক সেবন ও পাশের সাব হল বা মেসের মেয়েদের উত্যক্ত করার নিরাপদ আস্তানা হিসেবে তৈরি হয়েছে এটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ প্রায় কয়েকহাজার পথচারী এই সড়ক পারাপার হোন। ব্যস্ত এই সড়ক পারাপারের ক্ষেত্রে কাউকেই এই ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করতে দেখা যায় না। যাদের উপরে উঠতে দেখা যায় তাদের অধিকাংশই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে অথবা মাদক সেবন বা পাশের ছাত্রী হোস্টেল গুলোতে মেয়েদের উত্যক্ত করার উদ্দেশ্যে সেখানে যায়।
এদিকে ফুটওভার ব্রিজের ঠিক সামনেই প্রথম ছাত্রী হলের অন্তর্ভুক্ত সাব হলের (আমির কমপ্লেক্স)। এর সামনে অবস্থিত ওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে প্রায়ই ছেলেদের হলের রুমের ভিতর মেয়েদের দেখার চেষ্টা এবং নানান অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে অশালীন আচরণ করতে দেখা। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হলের নারী শিক্ষার্থীরা। ওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে মেয়েদের হলের রুমের ভিতর দেখার চেষ্টা করার কিছু ভিডিও ও ছবি এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। ভিডিওতে দেখা যায় এক ব্যাক্তি ওভার ব্রিজের হলের পাশে দাঁড়িয়ে বার বার হলের রুমের ভিতর উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২০২১—২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে তৎকালীন মেয়ের আরিফুল হক চৌধুরী এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণের ঘোষণা দেন। তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে নানা সমালোচনা তৈরি হয়। তখন শিক্ষার্থীদের দাবি ছিলো এটিকে দূরে কোথাও স্থাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যাতে বেপরোয়া গাড়িগুলোর গতিরোধ করা যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের ফুটওভার ব্রিজের পাশের ছাত্রী হোস্টেল (আমির কমপ্লেক্স) এর শিক্ষার্থী রুবাইয়া হক হৃদিকা বলেন, হলের সামনের ফুটওভার ব্রিজে ছেলেদের মাদক সেবন সহ অশালীন আচরণের মাধ্যমে হলের ভিতরে মেয়েদের উত্যক্ত করার মতো ঘটনা এখন প্রতিনিয়তই ঘটছে। এর ফলে হলে অবস্থানরত আমরা নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের নিকট এসব অপরাধ বন্ধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ থাকবে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ জুয়েল বলেন, প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে ফুটওভার ব্রিজটি বর্তমানে পরিণত হয়েছে সরাইখানায়। প্রায়শই পার্শ্ববর্তী ছাত্রী হোস্টেল নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির খবর পাওয়া যায়। প্রশাসনের উচিৎ তার গা ছাড়া ভাব বাদ দিয়ে ফুটওভার ব্রিজটিকে ফুটওভার ব্রিজে পরিণত করা।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, বিষয়গুলো ইতোমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এসব জায়গায় যথাযথ টহল বাড়ানোর মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধগুলো কমানোর চেষ্টা করবো।
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন