প্রকাশিত: ০৩ মে, ২০২৬ ২৩:২৫
সাইফুল মিয়া। পঞ্চাশোর্ধ্ব এই কৃষকের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। দেখার হাওরের নিয়মিত কৃষক তিনি। যৌবনকাল থেকেই কৃষির সাথে জড়িত দরিদ্র এই কৃষক। কৃষির সাথে দিনরাত জড়িত থাকা এই কৃষক জানেন না সরকার এ বছর ধান কেনা শুরু করেছে আগেভাগেই। ধানের দাম সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নন তিনি। কেউ তাকে বলেও নি যে, সরকার এবছর ধানের দাম নির্ধারণ করেছে ১৪৪০ টাকা। এমন হাজারো কৃষক আছেন সুনামগঞ্জ জেলায়, যারা ধানের দাম সম্পর্কে সামান্য জ্ঞানটুকুও রাখেন না।
সরকারিভাবে আরো ১০ দিন পর ধান কেনার কথা থাকলেও হাওরের দুরবস্থা ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে এবছর নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান কেনা শুরু করেছে সরকার। রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কেনা শুরু করে জেলা-উপজেলা প্রশাসন। অথচ এখনো পর্যন্ত প্রান্তিক কৃষকরা জানেনই না সরকারিভাবে ধানের দাম মন প্রতি কত টাকা ধরা হয়েছে। তবে সরকারি দামের খবর না জানলেও সাইফুল মিয়ারা ঠিকই জানেন ফরিয়াবাজরা মাঠ থেকে কত টাকা দরে ধান কিনছে। মধ্যস্বত্বভোগী ধানের বেপারীরা খলায় খলায় ঘুরে এতো কষ্টের ধানের দাম হাঁকাচ্ছেন মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। অজুহাত হিসেবে বলছে, ভেজা ধান কিংবা চারা গজানো ধান। এতেই মন ভাঙছে কৃষকের।
সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, দিরাই, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাওরে ডুবরা বা জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে ধানের। এরই মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে বেশ কয়েকটি হাওর ক্রমাগত তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। জমিতে সব ধান পাকা। দ্রুত ধান কেটে না তুললে পানিতে তলিয়ে যাবে। যাচ্ছেও। জমিতে পানি থাকার কারণে হারভেস্টার মেশিন কোনোভাবেই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় টাকা বেশি দিয়ে ধান কাটার শ্রমিকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য মধ্য স্বত্বভোগী ও দাদন ব্যবসায়ীরা সুযোগটিকে কাজে লাগাচ্ছে। খলায় খলায় ঘুরে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যেই দাম দিচ্ছে প্রতি মন ধানের। বাধ্য হয়েই এতো কম দামে সোনার ফসল তুলে দিতে হচ্ছে ফরিয়াবাজদের হাতে। অন্যদিকে, অনেক কৃষকরা আগে থেকেই কম দামে মন দরে টাকা এনে জমি চাষবাস করানোয় সেই ধানও এখন দিতে হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে। কৃষকদের দাবি, ধান ক্রয়ের প্রক্রিয়া সহজিকরণ করলে এবং সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের বিষয়টি ভালোভাবে জানালে কৃষকরা বেশ উপকৃত হবেন।
দেখার হাওর পাড়ের জানীগাঁও গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া বলেন, খরিদদাররা খলায় এসে ৬০০-৮০০ টাকা মণ কিনছে। রোদ নাই ধান শুকানো যাচ্ছে না, মাঠে থেকে পঁচে নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষক ঋণ করে টাকা এনেছে, অনেকে আবার খরিদদারদের কাছ থেকে আগেই ধানের টাকা এনেছে। ধান কাটার আগেই খরিদদাররা অনেকে কৃষকের কাছ থেকে ৬০০-৮০০ টাকা মনে ধান কিনে রেখেছে। কিন্তু সরকারিভাবে প্রতি মণ ধানের দাম ১৪৪০ টাকা ধরা হয়েছে শুনেছি।
তিনি বলেন, কৃষকদের ঠকিয়ে ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে। সরকারি দামের বিষয়ে আমরা অনেকেই জানি না। তাছাড়া সরকারি গুদামে ধান নিয়ে গেলে পড়তে হয় আরো অনেক ঝামেলায়।
তবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকদের অবগত করতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন তারা। খাদ্য গোদামে আসার আগে অবশ্যই ধানের স্যাম্পল আগে নিয়ে এসে পরীক্ষা করে তারপর ধান নিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন তারা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বি এম মুশফিকুর রহমান বলেন, ১৪৪০ টাকা ধরে সরকারিভাবে সুনামগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষক ও সাধারণ জনগণকে জানাতে ইতোমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে। সরকার এ বছর জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মন প্রতি ১৪৪০ টাকা দামে জেলার সকল উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এবছর বৈরী আবহাওয়া অনেক কৃষকের ধান ঠিকমতো শুকাতে পারেনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে সকল কৃষকরা তাদের ধান শুকাতে পারেন নি, তারা এলএসডি তে ধান নিয়ে শুকিয়ে তারপরে এটি সরকারের গুদামে দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
৩ মে থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে এই ধান ক্রয় করা হবে। কোন মধ্যস্বত্তভোগীদের কাছ থেকে ধান করা হবে না প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারের ভাবে এই ধান ক্রয় করা হবে। তার বক্তব্যের প্রায় একই রকম বক্তব্য দিয়েছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. আবদুর রব। তিনি বলেন, ধানের আদ্রতা ঠিক রেখে বিক্রি করতে হবে। ১৪ শতাংশ আদ্রতা না থাকলে ধান ক্রয় করা হবে না। এজন্য বিক্রিত ধান না নিয়ে আগে ধানের স্যাম্পল আনতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ১৪৪০ টাকা দরে ধানের ক্রয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। গুদামে যে ধানগুলো আসে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে ভে…
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন