আর্চ সেতুতে ‘পর্যটন স্পট’ হবে সদরপুর

প্রকাশিত: ০৯ মে, ২০২৬ ২২:৪৩

আগস্টে কাজ শেষের আশ্বাস, থাকবে প্রতিফলক, যানজটের কষ্ট থেকে মিলবে মুক্তি

প্রায় প্রতিদিনই যানজট লাগছে সেতুটির দুই প্রান্তে। এই জ্যামে পড়েননি, অথচ সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন যাত্রী মিলানো দুষ্কর। কখনো আধঘন্টা, কখনো একঘন্টাও যাত্রীদের বসে থাকতে হয় এই জ্যামে। যানজট নিরসনে দুইপাশে দুইজন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রায়শই এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। 


বলছিলাম, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদরপুর সেতুর কথা। তবে, আশার কথা হচ্ছে আর বেশি দিন এমন দুর্ভোগে পোহাতে হবে না যাত্রীদের। আগামী ৪ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে নির্মাণাধীন এই সেতুর। সেতুতে যান চলাচল শুরু হলেই আর যানজট থাকবে না সদরপুরের সেতুতে।

 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৫১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরে কাজ শুরু হয় সেতুতে। পরবর্তীতে অ্যাপ্রোচ নির্মাণের জন্য ব্যয় বাড়ানো হয় আরও ১৫ কোটি টাকা। মোট ৬৬ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকায় এখনো চলমান সেতুটির নির্মাণ কাজ। সময় যত গড়াচ্ছে ততই দৃশ্যমান হচ্ছে সদরপুর সেতুর সৌন্দর্য। স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটি সুন্দর করেই নির্মাণ করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে সেতুকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে সদরপুর সেতু এলাকা।
জানা যায়, দৃষ্টিনন্দন এই সেতু নির্মাণের কাজ পায় আবদুল মোনেম লিমিটেড এন্ড হিজ্জাদুজ্জামান চৌধুরী জয়েন্ট ভেনচার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কথা ছিলো ২০২৫ সালের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ করার। কিন্তু নানা জটিলতায় নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরও পুনরায় বাড়ানো হয় নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়। সেতু নির্মাণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব সম্ভবত চলতি বছরের আগস্টের দিকেই শেষ হতে পারে সম্পূর্ণ কাজ। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকী কাজ শেষ করেই যান চলাচলের ব্যবস্থা করা যাবে। যোগাযোগ মন্ত্রী অথবা একযোগে সারা দেশের সব সেতুর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগেই সব কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা ব্যক্ত করা হয়েছে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে।

 


সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৪১.৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুতে থাকবে ৩টি স্প্যান। ফুটপাতসহ সেতুটির প্রস্থ হবে ১৩.৪০ মিটার। ডাবল লেন মাল্টি স্প্যান স্টিল আর্চ ধরনের এ সেতুর মূল ক্যারিয়েজওয়ে থাকবে ১০.৩০ মিটার এবং দুই পাশে ফুটপাতের প্রস্থ হবে ১.৫৫ মিটার করে। সেতুটির পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে নির্মাণ করা হবে টেকসই অ্যাপ্রোচ। রাতের সৌন্দর্য্যের জন্য আলাদা করে প্রতিফলক বসানো হবে যা রাতে গাড়ির আলো পড়ার সাথে সাথেই জ্বলে উঠবে, সৌন্দর্যও বাড়াবে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সদরপুর এলাকার পশ্চিমপাড়ে সেতু নির্মাণে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। দীর্ঘ উচ্চতার টাওয়ারাকৃতির রেকার দ্বারা ভারী স্টিলের স্পেন উঠিয়ে ব্রিজের বিভিন্ন অংশ বসানো হচ্ছে। কর্মীরা কেউ নাট-বল্টু টাইট করছেন, কেউ কেউ ওয়েল্ডিং এর কাজ করছেন। প্রকৌশলীরা কাছে থেকে কাজকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রায় অর্ধশত শ্রমিক নিজেদের কাজে ব্যস্ত। কিছু মানুষ এই কর্মযজ্ঞ দেখতে দাঁড়িয়েছেন। কেউ কেউ গাড়ি থামিয়ে পাশের দোকানে রং চা পান করছেন আর ব্রিজের কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। 

 


স্থানীয়রা জানান, শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুরসহ সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় সকল মানুষের সড়ক পথের যাতায়াতের প্রধান ভরসা সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক। এই সড়ক দিয়েই সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে ছাতক, গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়া বাজার, জগন্নাথপুর উপজেলা, বিভাগীয় শহর সিলেট এবং রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে সদরপুর সেতুটি সব দিক থেকেই গুরুত্ববহন করে। বর্তমান অবস্থায় যে যানজটের সৃষ্টি হয় তাতে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। অনেক সময় উভয়পাশে প্রায় ১-২ কিলোমিটারেরও বেশি যানজট তৈরি হতে দেখা যায়। তবে, এখন যেভাবে কাজ করা হচ্ছে, অতি দ্রুতই সেতুর কাজ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

 


তারা আরও জানান, কাজ দেখে মনে হচ্ছে ঢাকার হাতিরঝিল কিংবা দেশের অন্যান্য শহরের সুন্দর সুন্দর সেতুকেও এটি হার মানাবে। সুন্দরের গুণে মুগ্ধ হয়ে অনেক সৌন্দর্য পিপাসু এখানে এসে সময় ব্যয় করবেন। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা টিকটকাররাও ভিড় জমাতে পারেন। কিছু মানুষ দোকানপাট খোলবেন, তাদের আর্থিক অবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। অপরদিকে জেলার পৌর শহর, দিরাই, জামালগঞ্জ, তাহিরপুরসহ সকল উপজেলার সাথে সহজ সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় অনেক সময় সাশ্রয় হবে। এতে আর্থিক লাভবান হবে সরকার।

 


বাস গাড়ি চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন থেকেই আমরা এই সেতুতে ভুক্তভোগী। শান্তিগঞ্জ বাজার বা পাগলা বাজার পাড় হওয়ার পর মনে ভয় জাগে সদরপুরে গিয়ে যদি যানজটে পড়ে যাই। মনে মনে দোয়া পড়তে থাকি। দ্রুত কাজটি শেষ হলে আমাদের জন্য বিশেষ উপকার হয়। প্রায় একই কথা বললেন, সিএনজি চালক মকবুল হোসেন, লেগুনা চালক আল আমিন ও ট্রাক ড্রাইভার নাহিদ মিয়া। 
অ্যাম্বুলেন্স চালক আবু বকর বললেন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে প্রায় প্রতিদিনই সিলেটে রোগী নিয়ে যেতে হয় আমাদের। রোগী গাড়িতে নিয়ে যখন জ্যামে বসে থাকতে হয় তখন আমার খুবই কষ্ট লাগে। রোগী বা আত্মীয়স্বজন হাপিত্যেশ করতে থাকেন, অথচ তখন কিছুই করার থাকে না। সেতুটির নির্মাণ কাজ যতদ্রুত শেষ হবে আমাদের জন্য মঙ্গল।

 


সদরপুর এলাকার বাসিন্দা বসির মিয়া, ইয়াহিয়া পারভেজ ও শব্দেন নূর আহমদ সাগর বললেন, আমাদের এলাকার একটি বদনাম ছিলো এই সেতু। নির্মাণ কাজ শেষ হলে একটি সুন্দর সেতু পাবো আমরা। আশা করছি, খুব দ্রুত এর কাজ শেষ হয়ে যাবে। স্টিলের এই সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এলাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসবেন। সুন্দর সেতু হবে আমাদের এমনটাই প্রত্যাশা।
সদরপুর সেতুর নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে আছেন সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, আর্চ সেতু খুবই সুন্দর হয়। এটিও সুন্দর হবে। টেকসই কাজ হচ্ছে। চলতি বছরের আগস্টে আমরা এটাকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারবো। ব্রিজে প্রতিফলক থাকবে। রাতে গাড়ির আলোতে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার