প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২৫
সংগৃহীত ছবি
রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা নিয়ে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকায় ডেপুটি স্পিকারই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা নিয়ে সাংবিধানিক বিধান ও প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে মতামত চাওয়া হয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় তাদের মতামত দেয়।
আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায়, সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার যেহেতু স্পিকারের সব দায়িত্ব পালন করে থাকেন, সে হিসাবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর জন্যও তিনি (ডেপুটি স্পিকার) সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।’
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল করায় ওই আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
ভোট শেষে আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনে হলেও এর সার্বিক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৭২টি।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন