প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২১
সংগৃহীত ছবি
নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক ছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ভ্রমণপ্রিয় মানুষের পাশপাশি অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেও রাসুয়া ও এর আশেপাশের অঞ্চলে উপস্থিত ছিলেন।
মূলত এই এলাকাটিতে অনেক উঁচুতে অবস্থিত দুটি ভিন্ন হ্রদ রয়েছে, যেগুলো হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত। এর একটি হলো তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে অবস্থিত মানসরোবর হ্রদ এবং অপরটি নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুন্ড হ্রদ। পুণ্যলাভের আশায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এখানে ভিড় জমিয়েছিলেন দর্শনার্থীরা।
প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক, বিশেষ করে ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা নেপালের মধ্য দিয়ে মানসরোবর হ্রদে যাত্রা করেন। বছরের নির্দিষ্ট এই সময়ে পুণ্যার্থীরা মানসরোবর পরিদর্শনের পাশাপাশি গোসাইকুন্ড হ্রদে পবিত্র স্নান সেরে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই অঞ্চলে সমবেত হন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন ঐতিহ্যের টানেই দুর্গম এই পথে মানুষের এমন ঢল নামে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আলপাইন কৈলাস ট্রেক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ পণ্ডিত জানান, তীর্থযাত্রীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি রুট। পর্যটকরা সাধারণত মাসের এই নির্দিষ্ট সময়েই সেখানে ভ্রমণ করতে বেশি আগ্রহী হন। কারণ এ সময় সেখানে পূর্ণিমা দেখা যায়। পুণ্যার্থীদের কাছে পূর্ণিমা অত্যন্ত শুভ ও পবিত্র বলে বিবেচিত। মূলত এই পূর্ণিমা দর্শন ও পবিত্র স্নানকে কেন্দ্র করেই আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এলাকাটিতে এত মানুষের সমাগম ঘটেছে।
সূত্র : সমকাল.কম
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন