প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১১
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। ওই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের একজন ছিলেন তিনি। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ঢাকায় ফেরার পরই তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগ হয়।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিজয়ের পর ঢাকায় আসামাত্রই আমাকে টেলিফোন করেন মিস্টার এ বি এম সাত্তার। তিনি ফোন করে নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, বেগম জিয়া আপনাকে দেখা করতে বলেছেন। আজকেই আমি এসে আপনাকে নিয়ে যাব।
তিনি বলেন, আমি বললাম- ঠিক আছে। বেগম জিয়া যখন দেখা করতে বলেছেন, তখন যেতে হবে। তিনি আমার কমান্ডারের স্ত্রী।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম দিকের পরিচয়ের স্মৃতিচারণ করে স্পিকার বলেন, বেগম জিয়া বললেন, আপনি তো জিয়ার খুব পরিচিত ছিলেন। আপনারা তো পরিচিত সেনা পরিবারের সদস্য। জেনারেল জিয়ার এপিএস থাকাকালে বেগম জিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল।
সে সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জিয়ার জীবন তখন খুব সহজ-সরল ছিল। একদিন আমরা জিয়ার কাছে ছিলাম। তখন তার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আসত না। তৎকালীন সরকার তাকে কিছুটা সন্দেহের চোখে দেখত। অনেক কাজ শফিউল্লাহর মাধ্যমে করা হতো। ফলে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলও তেমন আসত না।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি অফিসে এসে মাঝে মাঝে গল্প পড়তেন, কখনো ম্যাগাজিন পড়তেন। খুব একটা কাজ ছিল না। তার একমাত্র কাজ ছিল বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ঢাকা, রাজশাহী, মির্জাপুরসহ বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতি মাসে একটি বা দুটি ক্যাডেট কলেজে সভা করার জন্য যেতাম। সেনাবাহিনীর যে জিপটি তার জন্য ছিল, আমি সেটি চালাতাম। তিনি পাশে বসতেন। গল্প করতে করতে যেতাম। দূরত্ব বেশি হলে চার-পাঁচ ঘণ্টাও লাগত। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী কিংবা মির্জাপুর যাওয়ার সময় যুদ্ধের দিনের নানা কথাবার্তা হতো।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জাপুর যাওয়ার একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এরকম একদিন সকালে জিয়ার বাসায় গেলাম। বেগম জিয়া বেরিয়ে এসে বললেন—তখন তিনি আমাকে ভাই বলতেন—ভাই, আপনারা কত জায়গায় ঘুরেন। আমি তো ঘরে বসে বসে বড় হয়ে গেলাম। আমাকে একটু কোথাও নিয়ে যান না।
তিনি বলেন, আমি বললাম, পরশুদিন আমরা মির্জাপুরে যাব। মধুপুরের বনের মধ্য দিয়ে একটা সুন্দর রাস্তা আছে। খুব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য। আপনাকে নিয়ে যাব।
এরপর জিয়াউর রহমানকে বিষয়টি জানানোর স্মৃতিচারণ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অফিসে গিয়েই আমি তাকে বললাম, স্যার, আমরা তো দুজন বিভিন্ন জায়গায় যাই। ভাবি তো কোথাও যান না, বাসায় বসে থাকেন। তাই ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের একটি মার্সিডিজ গাড়ি ছিল। আমি ড্রাইভারের পাশে সামনে বসব, আপনি পেছনে ডান পাশে বসবেন। পরশুদিন মির্জাপুরে একটি মিটিং আছে। টাঙ্গাইল হয়ে মধুপুরের ফরেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। ভাবিকে নিয়ে চলেন।
তিনি বলেন, তিনি আমার দিকে তাকিয়ে এক-দুই সেকেন্ড চুপ থেকে বললেন, দরকার নেই।
ঘটনাটি জানাতে বাসায় ফিরে যাওয়ার পর খালেদা জিয়ার হতাশ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বাসায় এসে বেগম জিয়াকে বললাম, ভাবি, সরি। উনি চান না। মিটিংয়ে ঝামেলা হবে। তিনি একেবারে হতাশ হয়ে গেলেন। মির্জাপুর যেতে পারেননি বলে তার মন খারাপ হয়েছিল।
শেষে খালেদা জিয়ার পরবর্তী জীবনের কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পরবর্তীকালে সারা বিশ্ব তার জন্য উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ভাগ্যে যদি থাকে, যোগ্যতা যদি থাকে, একদিন না একদিন সেটা পাওয়া যাবে।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন