প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯
সংগৃহীত ছবি
দেশে কমদামি বা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ফের বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সিগারেটের দাম নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং এ খাতে রাজস্ব ঘাটতি কমানোই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্যস্তর অনুযায়ী বর্তমান দামের তালিকাটি হলো-
সিগারেটের স্তর আগের দাম নতুন দাম বৃদ্ধি
নিম্নস্তর ৬০ টাকা ৬২ টাকা ২ টাকা
মধ্যম স্তর ৮০ টাকা ৯২ টাকা ১২ টাকা
উচ্চ স্তর ১৪০ টাকা ১৬০ টাকা ২০ টাকা
অতি-উচ্চ/প্রিমিয়াম স্তর ১৮৫ টাকা ২১০ টাকা ২৫ টাকা
অর্থাৎ, ১০ শলাকার প্যাকেটে সবচেয়ে কম ২ টাকা এবং সবচেয়ে বেশি ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।
তবে ৭ সেপ্টেম্বরের নতুন সিদ্ধান্ত
মন্ত্রিসভার অনুমোদিত সংশোধন অনুযায়ী নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব থেকে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব করা হচ্ছে। অর্থাৎ নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে আরও ৩ টাকা সমন্বয় হচ্ছে।
নিম্নস্তর ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব
মধ্যম স্তর ৯২ টাকা ও তদূর্ধ্ব
উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা ও তদূর্ধ্ব
অতি-উচ্চ/প্রিমিয়াম স্তর ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ২ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর মধ্যে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার তা আরও ৩ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব করা হচ্ছে।
এদিকে একই বৈঠকে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত এসব পণ্য আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও সম্প্রসারণে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে হংকং থেকে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সূত্র: কালবেলা .কম
এমডি
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন