প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৬
এআই - প্রতিকি ছবি
জেলার বৃহৎ বালুমহাল হিসেবে পরিচিত যাদুকাটা নদীতে বালুর পরিমাণ ও অবস্থান নির্ধারণে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ—পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। নদীর তলদেশে কী পরিমাণ বালু রয়েছে, কোথায় কতটুকু বালু জমেছে এবং নদীর বর্তমান গভীরতা কত এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য জরিপটি পরিচালনা করা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যাদুকাটা নদীর বালুমহাল থেকে খাস আদায়ের আগে নদীর তলদেশে থাকা বালুর পরিমাণ ও অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রয়োজন। এ জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগকে চিঠি দিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশের তলদেশের গভীরতা, বালুর স্তর এবং সম্ভাব্য বালু উত্তোলনযোগ্য এলাকার তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত জরিপ কার্যক্রম শুরু হয় নি। বিআইডব্লিউটিএ’র হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, জরিপ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো জমা দেওয়া হয় নি। এ কারণে জরিপের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করে প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। ওই প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অর্থ জমা দেওয়ার পর হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। জরিপের মাধ্যমে নদীর তলদেশের গভীরতা, বালুর স্তর ও পরিমাণ এবং কোথায় বালু উত্তোলন করা সম্ভব, এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। পরে এসব তথ্যের ভিত্তিতে আগামী ছয় মাস যাদুকাটা নদীর বালুমহাল থেকে খাস আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে যাদুকাটা নদীর বালুমহাল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জেলা বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হওয়ার কথা থাকলেও হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের বিষয়টি সামনে আসায় সভাটি স্থগিত করা হয়েছে। জরিপের তথ্য পাওয়ার পর সভা করে বালুমহাল থেকে খাস আদায়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যাদুকাটা নদীতে বালুর প্রকৃত পরিমাণ ও বিস্তৃতি নির্ধারণ না করে বালুমহাল থেকে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নদীর কোন অংশে কতটুকু বালু রয়েছে এবং কোথা থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে, তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক জরিপের তথ্য প্রয়োজন। এ কারণে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনেও ইজারার পরে ও আগে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের পরিচালক বেগম শামসুন নাহার বলেন, যাদুকাটা নদীতে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরিপের ব্যয় নির্ধারণ করে প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো টাকা জমা না হওয়ায় জরিপ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, বৃহস্পতিবার জেলা বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা স্থগিত করা হয়েছে। যাদুকাটা নদীতে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার জন্য বিআইডব্লিউটিএ কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জরিপের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আজ (সোমবার) জমা দেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন