২০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায়

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৬

সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চরম এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় তীব্র সরবরাহ ঘাটতি থাকায় জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সিলিন্ডার না পেয়ে হাহাকার করছেন ভোক্তারা। অন্যদিকে, কৃত্রিম সংকট ও অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে স্থানভেদে ২০০ থেকে শুরু করে প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

 


খুচরা পর্যায়ে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১,৫৮৫ টাকা হলেও জেলার বিভিন্ন বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। কোথাও কোথাও এর দাম উঠে গেছে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

 


সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ দোকানেই সিলিন্ডারের কোনো স্টক নেই। যেসব দোকানে সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার মিলছে, তা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে রান্নার জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকেরা এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটেও বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার সিলিন্ডার না পেয়ে বিকল্প হিসেবে লাকড়ি ব্যবহার করছেন।
শহরের মল্লিকপুর এলাকার অমেরা এলপিজি গ্যাসের ডিলার শাহ আলম জানান, গত মাসের ৩০ তারিখ থেকে দাম বেড়েছে। আগে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৭৫ টাকায় কেনা পড়লেও এখন কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬৮৮ টাকায়। আগে আমরা বিক্রি করতাম ১ হাজার ৬৩০ টাকায়, এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। এছাড়া সরবরাহ ব্যাপক হারে কমে গেছে। যেখানে ৬০৪ পিস সিলিন্ডার পাওয়ার কথা, সেখানে পাচ্ছি মাত্র ৪০০ পিস। অথচ ১৭ জন কর্মচারীর বেতন ও পরিবহন খরচ আগের মতোই রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে আমরাও চরম বিপাকে আছি।

 


মল্লিকপুরের খুচরা ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম বলেন, দাম বাড়ার কারণে আমি প্রেস কোম্পানির সিলিন্ডার বিক্রি করি নি। তবে অমেরা কোম্পানির সিলিন্ডার বিক্রি করছি। তাও প্রতিটির দাম আগের তুলনায় প্রতিটাতে ১০০ টাকা করে বেড়েছে। আগে কিনা হতো ১৬০০ টাকায়, এখন কিনতে হচ্ছে ১৭০০ টাকায়। ক্রেতারা দাম বাড়ার কারণে শুধু শুধু দাম বাড়া নিয়ে তর্কবিতর্ক করে। এরমধ্যে সিলিন্ডারও পাওয়া যায় না। পাঁচটা চাইলে দুইটা দেয়। 

 


ভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংকট নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। ওয়েজখালি এলাকার বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, গেল মাসে যে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছিলাম ১ হাজার ৫৭০ টাকায়, এখন তার দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

 


একই চিত্র দেখা গেছে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খুচরা বিক্রেতা পল্টন বর্মন জানান, তারা বর্তমানে প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। অন্যদিকে, ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়ে আমাদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল, আমরা তা আগেই পাঠিয়েছি। এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও মনিটরিং কমিটিকে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে নিয়মিত নজরদারি থাকে এবং নির্ধারিত মূল্যের ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার