প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৮
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ছয় জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় এই পর্যন্ত মোট ৭৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৬ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নয়জন চিকিৎসাধীন আছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় নি।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে বর্তমানে চারজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা নিয়ে কেউ হাসপাতালে এলে পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়। সাধারণত সুনামগঞ্জে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া যায় না। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, যাঁরা ঢাকায় বসবাস করেন বা কাজের সন্ধানে সেখানে যাওয়া—আসা করেন, তাঁরা সুনামগঞ্জে ফিরলে তাঁদের মধ্যেই ডেঙ্গু পজিটিভ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ইতিহাসেও ঢাকায় যাতায়াত বা কর্মসূত্রে অবস্থানের তথ্য মিলেছে।
ডা. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে আসরের পর কামড়ায় এবং জমে থাকা নোংরা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
হাসপাতাল এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালালুদ্দিন মোর্শেদ। তিনি বলেন, ঘরবাড়ির চারপাশ ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, কোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এমনকি বাথরুমের বালতির পানিও তিন দিন পর ফেলে দিতে হবে। এতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ এমনিতেই কমে আসবে।
সিভিল সার্জন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সব ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে। পরীক্ষা—নিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিটও মজুত আছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন