প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০৪
প্রতীকী ছবি।
সুনামগঞ্জ জেলায় হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এই নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৫২ জনে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত হাম রোগী মোট ৩৫৭ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ নেই। সন্দেহজনক হামে মৃত্যু মোট ৬৫ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত নেই। নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ২২ জনসহ সোমবার পর্যন্ত মোট চিকিৎসা নিয়েছে ৪ হাজার ৬৫১ জন। গেল ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়েছে ১০ জন। এছাড়াও সুস্থ হয়ে মোট ৪ হাজার ৫৪৯ জন বাড়ি ফিরেছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গেল সেপ্টেম্বর মাসে ১ হাজার ১৩৫ জন হাম রোগী ভর্তি ছিলেন। চলতি মাসে এই পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ২৩২ জন। মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৪৪ জন। এছাড়া হাম ডেডিকেটেড আইসিইউতে ৯ জন।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বললেন, গেল ছয় মাস ধরে সারাদেশেই ভাইরাসজনিত হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে সিলেট অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি এবং সুনামগঞ্জেও এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে টিকার কার্যকারিতা না থাকা এবং অনেক শিশুর সময়মতো টিকা না নেওয়া। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার অনেক মা—বাবা তাদের শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারেন নি। এ কারণে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে আক্রান্তের মাত্রা অনুযায়ী দুই ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাদের আক্রান্তের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, তাদের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর যারা গুরুত্বরভাবে আক্রান্ত, তাদের জন্য পৃথক আইসিইউতে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড আইসিইউও রয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভালো সাফল্য পাওয়া গেছে।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস—প্রশ্বাসের মাধ্যমে হাম ছড়াতে পারে, তাই যতটা সম্ভব আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হামের ক্ষেত্রে প্রধানত কয়েক ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে পেটের সমস্যা ও সংক্রমণ, নিউমোনিয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে। এসব জটিলতা প্রতিরোধের জন্যই হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড ও আইসিইউসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করলে হাম থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব।
সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালালুদ্দীন মুর্শেদ বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব কমাতে করোনাকালীন সময়ে যেসব স্বাস্থ্যবিধি ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা হয়েছিল, সেগুলোই অনুসরণ করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং সচেতনতা বাড়াতে পারলে হামের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫১৭ জনকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তবে এখনও ২১ হাজার ৩৯৩ জন টিকার আওতায় আসা বাকি রয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় দ্রুতই বাকি ব্যক্তিদেরও টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, সুনামগঞ্জের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাম আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন