সংস্কার নেই, গার্ডওয়ালে ধস

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০০

মুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আব্দুজ জহুর সেতু। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম সড়কপথে রয়েছে এই সেতু। তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক), শিমুলবাগান, বারেকেটিলাসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যেতে প্রতিদিনই এই পথ ব্যবহার করেন পর্যটকরা। জেলা শহরের সাথে জামালগঞ্জের সাচনা বাজার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা হয়ে তাহিরপুর যাতায়াতের একমাত্র সেতু সড়ক এটি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার, আলোকসজ্জা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতু ও আশপাশের পরিবেশ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অসঙ্গতি।


সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের এপ্রোচ ও সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে। কোথাও মাটি সরে গেছে, আবার কোথাও সড়কের পাশের অংশ ভেঙে গেছে। দায়সারাভাবে কিছু জায়গায় সংস্কার করা হলেও সেতুর অ্যাপ্রোচে ভাঙনের ক্ষত রয়ে গেছে। অ্যাপোচ সড়কের পিলার ভেঙে গেছে। ভাঙনের কারণে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও সময়মতো সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে ভাঙন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এখনই স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। কিন্তু ভাঙন দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে একপর্যায়ে তা সড়ক ও সেতুর নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 


অ্যাপ্রোচ সড়কের পশ্চিমে কুতুবপুর গ্রামের এক ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, সুরমা সেতুর নিচের ভাঙন মেরামত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই মেরামত দায়সারা ভাবেই করেছেন তারা। কুতুবপুর গ্রামের সিঁড়ির একপাশে কাজ করা হয়েছে এবং অপর পাশে বাকি রয়েছে। সেখানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো সময় ভাঙনে বিরাট ক্ষতি হতে পারে। এদিকে সিঁড়ির পশ্চিমে অনেক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর উপরের পিলারগুলো ভেঙে গেছে। সেতুটি এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।  দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 


একই গ্রামের লতিফ মিয়া বলেন, সুরমা নদীর উপর আব্দুজ জহুর সেতুর সংস্কার কাজ ভালো করে নি। অর্ধেক সংস্কার করা হয়েছে এবং অর্ধেক কাজে বাকি আছে। এইজন্য কয়দিন পরপরই সেতুর দুই পাশে ভাঙন দেখা দেয়। কাজটি ভালোভাবে করা দরকার। অন্যদিকে সেতুটির আশপাশের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ। সেতুর দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের পাশাপাশি বন—ঝোপঝাড় গড়ে উঠায় নষ্ট হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এই সেতু ও সড়কের সৌন্দর্য। অথচ পর্যটনসমৃদ্ধ সুনামগঞ্জে এই সড়ক দিয়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহদি বলেন, আব্দুজ জহুর সেতুটি দেখতে সুন্দর। কিন্তু সেতুর দুই পাশের ভাঙন, ময়লা—আবর্জনা ও ঝোপঝাড়ের কারণে এর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সংস্কার করা হলে জায়গাটি আরও সুন্দর হতে পারে।

 

 

 

 


শুধু ভাঙন ও সৌন্দর্যহানি নয়, সেতুটিতে পর্যাপ্ত লাইটিং না থাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সন্ধ্যার পর সেতু ও সংযোগ সড়কের অনেক অংশ অন্ধকারে থাকে। বিশেষ করে সেতুর আশপাশে বসতি ও ঝোপঝাড় থাকায় রাতের বেলায় এসব এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে।  এসব অপরাধ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অনেক সময় এই সেতু সড়কের পাশে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের পাশে মাদকাসক্তদের আড্ডাখানা ছিল। যদিও এখন আর তেমনটা সেখানে দেখা যায়নি না। তবে এর আশপাশে এখনও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন মাদক কারবারি এবং মাদকাসক্তদের আস্তানা রয়েছে বলে অনেকের ধারণা। ফলে স্থানীয় যুব সমাজের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি বাইরের এলাকার কিছু যুবকের আনাগোনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

 


সুনামগঞ্জের পর্যটন যোগাযোগের ক্ষেত্রেও আব্দুজ জহুর সেতুর গুরুত্ব অনেক। টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেক, শিমুলবাগান, বারেকেরটিলাসহ তাহিরপুরের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। তাদের বড় একটি অংশ এই সেতু ও সংযোগ সড়ক ব্যবহার করেন। এ কারণে সেতু ও সড়কের সৌন্দর্য্য, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

 


স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুর ভাঙা অংশ সংস্কার, আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং পর্যাপ্ত লাইটিং স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন যোগাযোগব্যবস্থা আরও নিরাপদ হবে, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছেও সুনামগঞ্জের প্রবেশপথটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বলেন, আগামীকালই (আজ বৃহস্পতিবার) সেতুর উপরে লাইটিং স্থাপন করে দেওয়া হবে। 
সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শীঘ্রই সেতু সড়কের চারপাশের ভাঙ্গন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার