প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৮
তাহিরপুরে ক্রিকেট খেলা ও অটোরিকশায় বল পড়াকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে পূর্ব ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নারী—পুরুষ আহত হয়েছেন। এসময় বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং একটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ছয়জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে তাহিরপুর সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজনকে গরু ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, এক সপ্তাহ আগে উপজেলার বীরজয়—লক্ষ্মী—ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল গিয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক জালাল মিয়ার অটোরিকশায় পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এর জেরে ওই দিন বিকালে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন। পরদিন মঙ্গলবার মধ্য তাহিরপুরে হাফিজ মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধুতমা গ্রামের লোকজন মারধর করেন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি হয়।
মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর বুধবার সকালে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মধ্য তাহিরপুর গ্রামে গিয়ে হামলা করে। এ সময় মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। চারটি দোকানঘরে হামলা এবং একটি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে নারী—পুরুষসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
.jpeg)
গুরুতর আহতদের মধ্যে বীরনগর গ্রামের মাইনুদ্দিন (৩৫), আশিষ মিয়া (৪০), রেজাউল (৩৫), খোকন মিয়া (৩৬) এবং মধ্য তাহিরপুর গ্রামের রমিজ মিয়া (৩৫) ও মাহবুর (৩৫) রয়েছেন। এছাড়া হাবিব মিয়া (১৮), আজিম (২৫), বাকারুল (৪৫), আকিল (১৯), আমিন (২২), সোরাব, হাবিজ মিয়া (২৫), তালিম (২২), সবুজ (৩৫), আকাশ (১৮) ও নজির হোসেন (২৪) সহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দোকানদার দুলু মিয়া বলেন, চার গ্রামের লোকজন প্রায় দেড় কিলোমিটার দূর থেকে এসে আমাদের দোকানঘর ও বাড়িঘরে হামলা চালায়। দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। একটি ঘরে আগুনও দিয়েছে।
স্থানীয় সাকিব মুন কুখন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে মসজিদের মাইকে হামলার ঘোষণা দেয়। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের বাধা দিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তারা তা মানেননি। পরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। নারী—শিশুরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের খাদিজা বেগম বলেন, দেশি অস্ত্র ও দলবল নিয়ে লোকজন আমাদের বাড়ির দিকে আসার সময় ইউএনও, ওসি ও স্থানীয় নেতারা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা কারও কথা না শুনে হামলা চালায়।
সূর্যে্যর গ্রামের দুর্জয় বলেন, ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা মারামারি হয়েছে। মসজিদের মাইক ব্যবহার করে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষ হলেও এখানে পুলিশের তেমন ভূমিকা দেখি নি। পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা শক্ত অবস্থান নিলে এ সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো যেত।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় পুলিশ অবস্থান করছিল। থানার ওসিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সংঘর্ষ এড়াতে চেষ্টা করেছেন। নদী ও হাওর দিয়ে এসে আক্রমণ করায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। কত রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি পরে জানানো হবে বলে জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন