প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৭
দোয়ারাবাজারে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
দোয়ারাবাজারে সুদের পাওনা টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত টাকা দাবি, ব্ল্যাকমেইল এবং এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী দোয়ারাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তের নাম আমির আলী। তিনি উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের মছন্দর আলীর ছেলে এবং দোহালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে অভিযুক্ত আমির আলীর কাছ থেকে সাপ্তাহিক সুদের ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন বঙ্গবন্ধু বাজারের এক নারী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। ঋণের জামানত হিসেবে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ব্যাংকের চেক রাখা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমির আলীর পাওনা পুরো টাকা পরিশোধ করে দেওয়া হয়। তবে টাকা শোধ করার পরও জমার চেক ফেরত না দিয়ে আমির আলী তাকে নানাভাবে হুমকি ও কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তিনি অসুস্থতার কারণে নিজ ফার্মেসির পেছনের কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় আমির আলী পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে তার মুখ চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তার ডাক—চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
ঘটনার পর বিষয়টি বাজারের ব্যবসায়ীদের জানানো হলে ৫ অক্টোবর বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। তবে অভিযুক্ত আমির আলী সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেন ওই নারী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং নিজের পরিবারসহ নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে বাজার কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসাইন জানান, খবর পেয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা সামাজিক সমাধানের উদ্যোগ নিই। সোমবার সালিশে অভিযোগকারী নারী উপস্থিত থাকলেও আমির আলী অনুপস্থিত থাকেন। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে আমির আলীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি (০১৭৬৩৬২৩৮০৪) বন্ধ পাওয়া গেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবদলের আজবায়ক মাধব রায় বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি, খোঁজ—খবর নিয়ে পরবতীর্ করণীয় ঠিক করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, এ ঘটনায় লিখিত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন