প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৭
আগাম উৎপাদিত স্থানীয় সবজি সুনামগঞ্জের বাজারে ওঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত লাউ, বরবটি, ডুগি, লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এতে কয়েক দিন আগের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ বাড়ায় একদিকে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকেরা।
রোববার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরনের তাজা সবজি। ক্রেতারা নিজেদের চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সবজি কিনছেন। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কৃষকদের আগাম উৎপাদিত সবজি বাজারে আসায় সরবরাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
.jpg)
সবজি বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন বলেন, কয়দিন আগে একটা পানিলাউ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা করে। এখন প্রতিটা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায়। দিনদিন দাম আরও কমবে। এই সময়টাতে স্থানীয় করলা, বেগুন, বরবটি, ডুগি, লালশাক সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি বাজারে আসছে। এতে করে দামও কমতে শুরু করেছে।
করলা আগে বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা থেকে ১২০ টাকা করে। এখন স্থানীয় কৃষকদের করলা বাজারে আসছে, ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে এসেছেন সালাম মিয়া। তিনি লাউ, ডুগি এবং লালশাক কিনেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম কমেছে। গত সপ্তাহে একটি লাউ ৭০ টাকায় কিনেছি। আজকে এই লাউ ৪০ টাকায় কিনতে পারছি। এছাড়াও লালশাক এবং ডুগি গত সপ্তাহের চেয়ে অর্ধেক কমে কিনেছি।
বাজারে সবজির সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি জানতে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে সিম এবং টমেটো সহ কাঁচা মরিচের কেজি কিছুটা বেশি।
.jpg)
সরেজমিনে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের অক্ষয়নগর এলাকায় গেলে কথা হয় কৃষক বাচ্চু মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তারা লাউ, ছিছিঙ্গা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। ক্ষেতে তৈরি করা মাচায় ঝুলছে পানিলাউ। পাশাপাশি চাষ করা হয়েছে বরবটি, ডুগিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। এসব সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।
কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, আমি ৪৫ শতক জমিতে লাউ এবং ৪৫ শতক জমিতে শসা চাষ করেছি। লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে লাউ বাজারে বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে দুই দফায় দুই খাঁচা লাউ বিক্রি করেছি। এতে প্রায় চার হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি লাউয়ের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে পাচ্ছি। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারদর আরও কমে যেতে পারে। বাজারদর তো আর আমাদের হাতে নেই, এটা রিজিকের ওপর নির্ভর করে।
এ ছাড়া জমিতে আরও কিছু সবজি চাষ করেছি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সামনে আরও খরচ রয়েছে। তবে এখনো সবজি বিক্রি পুরোপুরি শুরু হয় নি। গত সপ্তাহে বিক্রি করেছি কিছু সবজি। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।
.jpg)
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম সবজি উৎপাদনে বীজ নির্বাচন, জমি প্রস্তুত, মাচা তৈরি, সার প্রয়োগ, সেচ ও নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। উৎপাদন খরচের পাশাপাশি আবহাওয়া, রোগবালাই এবং বাজারদরের ওঠানামাও কৃষকদের লাভ—লোকসানের ওপর প্রভাব ফেলে। আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত লাভ নির্ভর করে উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ওপর।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে আগাম শীতকালীন সবজি ফলন শুরু হয়েছে। এরমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন, সুরমা এবং গৌরারং ইউনিয়নের কিছু এলাকায় সবজি বিক্রি শুরু করেছেন কৃষকেরা। তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করছেন কৃষকেরা। ইতোমধ্যে পানি লাউ, লালশাক, ডুগি,বরবটি, করলা বাজারে আসছে। দামও কমতে শুরু করেছে। বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দিন যত যাবে চাষাবাদ বাড়বে। অন্যান্য সবজি, যেমন টমেটো, আলু, সিম এগুলোও বাজারজাত শুরু হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন