কর্মকর্তার সঙ্গে অফিস সহকারীর হাতাহাতি!

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪১

তাহিরপুরে মহিলা সমিতির বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি ও ঘুষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে অফিস কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। 

 


জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতিকে ২২ হাজার টাকার একটি চেক দেয় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়। ওই টাকার ভাগ নিতে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সমিতির কার্যালয়ে যান মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন। এ সময় সমিতির সদস্যরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি গ্রামবাসীর প্রশ্নের মুখে পড়েন। পরে গ্রামের একটি দোকানে বসে তিনি আগের ঋণের টাকা থেকেও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে অফিসে ফিরে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আফজাল হোসেন কিছুটা আহত হন।

 


উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শাহিমা বেগম ও সম্পাদক করবুল নেছা বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন গ্রামে এসে সমিতির টাকার ভাগ দিতে বলেন। তাঁদের দাবি, সমিতির টাকা উত্তোলন করলে তিন ভাগ করতে হয় এক ভাগ সভাপতি, এক ভাগ সম্পাদক এবং আরেক ভাগ অফিসে দিতে হয়। অফিসের ভাগ নিতে তিনি এসেছিলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা বসে ছিলেন। তাঁরা সমান ভাগ দিতে রাজি না হওয়ায় কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে চলে যান।

 


অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, এ কর্মকর্তা ঠিকমতো অফিসে আসেন না। গতকাল শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি অফিসে আসতে পারেননি। তিনি স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সংগঠনকে চেক দিয়েছেন। কত টাকার চেক দিয়েছেন, তা জানেন না তিনি। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে বীরনগর থেকে কয়েকজন নারী তাকে ফোন করে জানায়, এই কর্মকর্তা সকাল ৯টায় সেখানে গেছেন এবং সংগঠনকে দেওয়া টাকার ভাগ চেয়েছেন। তাঁরা টাকা না দেওয়ায় তিনি গ্রামবাসীর কাছে আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করে আসেন। এ বিষয়টি  তাঁকে জিজ্ঞেস করতে গেলে তিনি আমাকে মারতে আসেন। তখন হাত দিয়ে ফেরানোর সময় তিনি চেয়ারে লেগে পড়ে যান। 

 


মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, বীরনগর গ্রামের সমিতি পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারি, কয়েক মাস আগে ২১ জন নারীকে ২৫ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীদের কাছ থেকে সাইফুল ইসলাম এক হাজার টাকা করে মোট ২১ হাজার টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করতে গেলে তিনি আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। 
সুনামগঞ্জ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এজেএম রেজাউল আলম বলেন, তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন চারটি উপজেলার দায়িত্বে রয়েছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। 

 


তিনি বলেন, অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ঘুষ ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার