যেসব ঘরোয়া উপায়ে মিলবে অ্যালার্জি থেকে মুক্তি

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৫

সংগৃহীত ছবি

ঋতু বদল কিংবা পরিবেশের নানা উপাদানের কারণে অ্যালার্জির সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভুগে থাকেন। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন এমন কিছু পদার্থের বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণত সবার জন্য ক্ষতিকর নয়, তখনই অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। 

 

 

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেলথলাইন’-এর তথ্য অনুযায়ী, অ্যালার্জির সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পরাগরেণু, ধুলাবালি বা ডাস্ট মাইট, পোষা প্রাণীর লোম বা খুশকি, ছত্রাক বা ছাঁচ এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার ও ওষুধ। অ্যালার্জি থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় হলো পরিচিত অ্যালার্জেনগুলো এড়িয়ে চলা। 

 

 

দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে অ্যালার্জির লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব: 

 

১. ঘরের পরিবেশ ও বাতাস পরিষ্কার রাখা 

 

নাসাল ইরিগেশন: স্যালাইন ওয়াটার দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে নাকের ভেতরের পথ ও সাইনাস থেকে শ্লেষ্মা, অ্যালার্জেন, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান দূর হয়। 

 

হেপা ফিল্টার: বাড়িতে হেপা ফিল্টার ব্যবহার করলে বাতাসে থাকা পরাগরেণু, ধুলাবালি ও পোষা প্রাণীর লোম আটকে যায়, ফলে ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার থাকে। 

 

এসি ও ডিহিউমিডিফায়ার: এয়ার কন্ডিশনার এবং ডিহিউমিডিফায়ার ঘরকে শুষ্ক রেখে ছত্রাক বা মাইটের জন্ম সীমিত করতে সাহায্য করে, যা অ্যালার্জির লক্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে। 

 

২. খাবার ও প্রাকৃতিক উপাদান 

 

ব্রোমেলেইন: এটি আনারস ও পেঁপেতে পাওয়া এক ধরনের পরিপাককারী এনজাইম, যা প্রদাহ ও ফোলাভাব কমিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। তবে এ বিষয়ে আরও জোরালো প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। 

 

প্রোবায়োটিকস: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোবায়োটিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খাদ্যে হওয়া অ্যালার্জি কমাতে সাহায্য করতে পারে, যদিও এর সুফল এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। 

 

স্টিঙ্গিং নেটল: ভিটামিন সি, আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই উদ্ভিদ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে বেশ পরিচিত। 

 

কোয়ারসেটিন: ব্রোকলি, ফুলকপি, সবুজ চা এবং লেবুজাতীয় ফলে এই উপাদানটি পাওয়া যায়। এটি শরীরের হিস্টামিন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রেখে অ্যালার্জির লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে।

 

ভিটামিন সি: ১৮ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য প্রতিদিনের প্রস্তাবিত ভিটামিন সি-এর মাত্রা হলো পুরুষদের জন্য ৯০ মিলিগ্রাম এবং নারীদের জন্য ৭৫ মিলিগ্রাম। 

 

৩. এসেনশিয়াল অয়েল ও ভেষজ উপাদান 

 

পুদিনা পাতার উপাদান: পেপারমিন্ট বা পুদিনা থেকে তৈরি উপাদানে মেন্থল, মেন্থোন এবং মিথাইল অ্যাসিটেট থাকে। 

 

ইউক্যালিপটাস তেল: এটি এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণের জন্য পরিচিত এবং অনেক সময় ডাস্ট মাইটের হাত থেকে বাঁচতে এটি ব্যবহারের কথা ভাবা হয়। তবে ডাস্ট মাইট অ্যালার্জিতে এর কার্যকারিতার প্রমাণ বেশ সীমিত। 

 


জরুরি সতর্কতা: কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

 

তবে সব অ্যালার্জি ঘরোয়া উপায়ে সারানো সম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি: 

 

অ্যানাফিল্যাক্সিস: এটি একটি অত্যন্ত তীব্র ও জীবনঘাতী অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, যা কোনোভাবেই ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা করা যাবে না। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, রক্তচাপে তারতম্য, মাথা ঘোরানো, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি এবং বমি হওয়া। 

 

এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। 

 

অ্যাসোসিয়েটেড অয়েল ব্যবহারের সতর্কতা: নতুন কোনো তেল ব্যবহারের আগে হাতের কনুইয়ের মতো ত্বকের ছোট্ট একটা অংশে সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। তবে ২৪ ঘণ্টা পর কোনো প্রতিক্রিয়া না হওয়ার অর্থ এই নয় যে তেলটি সবার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। 

 

 

এসেনশিয়াল অয়েল কখনো পান করা উচিত নয় এবং এটি কখনোই মূল চিকিৎসাকেন্দ্রিক বা ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প হতে পারে না। 

সূত্র:যুগান্তর .কম

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার