প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৫
সংগৃহীত ছবি
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা পেটে ভারি অনুভূতি অনেকেরই হয়ে থাকে। অনিয়মিত খাওয়া, কম পানি পান, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এ ধরনের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তবে দিনের শুরুতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
ইন্টিগ্রেটিভ লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ লুক কৌটিনহোর মতে, পেটের সুস্থতার জন্য কঠোর ডায়েট বা দ্রুত সমাধানের চেয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
১. ঘুম থেকে উঠে পানি পান করুন
রাতে দীর্ঘ সময় পানি পান না করার পর সকালে এক গ্লাস স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি খেতে পারেন। এটি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করার পাশাপাশি হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।
২. খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ রাখুন
সবজি, ফল, ডাল, ওটস ও চিয়া সিডের মতো খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে হঠাৎ করে বেশি আঁশ না খেয়ে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো ভালো।
৩. আদা বা মৌরি খেতে পারেন
হজমের অস্বস্তি কমাতে আদা ও মৌরি দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সকালে হালকা আদা বা মৌরি মিশিয়ে গরম পানি পান করা যেতে পারে। এতে কারও কারও পেটের অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
৪. চিয়া সিড আগে ভিজিয়ে নিন
চিয়া সিডে প্রচুর আঁশ রয়েছে। খাওয়ার আগে পানিতে ভিজিয়ে নিলে তা নরম হয়ে যায় এবং খাওয়াও সহজ হয়। অল্প পরিমাণ চিয়া সিড দই, ওটস কিংবা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
৫. সকালে কিছুক্ষণ হাঁটুন
পেটের সুস্থতার জন্য শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না, শরীরকেও সক্রিয় রাখতে হবে। সকালে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস হজম ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে।
৬. সকালের খাবার হালকা রাখুন
দিনের শুরুতেই অতিরিক্ত তেল-মসলা, ভাজাপোড়া কিংবা বেশি পরিমাণে খাবার খেলে পেট ভারী লাগতে পারে। তাই পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার দিয়ে দিন শুরু করা ভালো।
৭. খাবারের সময় নিয়মিত রাখুন
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার খাওয়ার অভ্যাস হজমের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পেটের সুস্থতা বজায় রাখতে কোনো একক খাবার বা ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটা, পরিমিত খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মতো অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর।
তবে পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা নিয়মিত হলে কিংবা তীব্র পেটব্যথা, বমি বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন