দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৩

সংগৃহীত ছবি 

বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিলাম এবং গ্রাহক পর্যায়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রতিবেদন নতুন বৈদেশিক মুদ্রা বাজার (এফএক্সএম) ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা বিভাগ এ বিষয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার নিলাম, আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন যথাযথভাবে সম্পন্ন ও প্রতিবেদন করার জন্য এফএক্সএম ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এত দিন এসব কার্যক্রম ম্যানুয়ালি সম্পন্ন হলেও এখন থেকে নির্ধারিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।

 

 

এফএক্সএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপমূলক নিলাম, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থাপনা করা হবে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পট, ফরওয়ার্ড ও সোয়াপ চুক্তিও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এফএক্সএমে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় বা বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারবে। নিলামের ফলাফল ও বরাদ্দও একই ব্যবস্থায় জানানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ও টাকার নিষ্পত্তি সম্পন্ন করতে হবে।

 

 

আন্তঃব্যাংক লেনদেনে বিক্রেতা ব্যাংক এফএক্সএমে আদেশ দেবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতা ব্যাংক তা গ্রহণ করবে। এরপর উভয় ব্যাংকের ব্যাক অফিসের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও টাকার নিষ্পত্তি করা হবে। সোয়াপ লেনদেনের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ও পরবর্তী ধাপের নিষ্পত্তিও এফএক্সএমের মাধ্যমে করতে হবে।

 

 

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের তথ্য সংগ্রহ ও রেফারেন্স বিনিময় হার নির্ধারণের জন্য প্রতিটি কর্মদিবসে গ্রাহক পর্যায়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য তিন দফায় জমা দিতে হবে।

 

প্রথম দফায় সকাল ১১টা পর্যন্ত হওয়া লেনদেনের তথ্য সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত হওয়া লেনদেনের তথ্য বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে জমা দিতে হবে। বিকাল ৪টার পর দিনের বাকি সময়ে সংঘটিত লেনদেনের তথ্য পরবর্তী কর্মদিবসের সকাল ১১টার মধ্যে জমা দেওয়া যাবে।

 

 

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদনযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন না থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে এফএক্সএমে শূন্য প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

 

রেফারেন্স বিনিময় হার নির্ধারণের জন্য সাধারণত ১ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি পরিমাণের গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেনের তথ্য জমা দিতে হবে। তবে প্রবাসী আয় বা মজুরি-ভিত্তিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণ যতই হোক, প্রকৃত লেনদেনের তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

 

 

এফএক্সএমে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত ছক অনুযায়ী এক্সেল ফাইল আপলোড করতে পারবে। পাশাপাশি পৃথক লেনদেনের তথ্য সরাসরি প্রবেশ করিয়েও প্রতিবেদন দেওয়া যাবে। তথ্য জমা দেওয়ার পর ব্যাংকের অনুমোদনকারী কর্মকর্তা তা যাচাই করে অনুমোদন করবেন।

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের লেনদেন আরও স্বচ্ছ, দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে লেনদেন পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন তৈরি, তথ্য সংরক্ষণ ও নিরীক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং ম্যানুয়াল কার্যক্রম ও প্রক্রিয়াগত সময় কমবে।

 

 

এফএক্সএম ব্যবহারের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক পরিচালন নির্দেশিকাও জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি

জাতীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার