প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১২
চিত্রশিল্পী তারেক আমিন। -ছবি: সংগৃহীত
রুহুল আমিন তারেক। চিত্রশিল্প অঙ্গনে দেশে ও বিদেশে তিনি ‘তারেক আমিন’ নামে পরিচিত। শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা’ অর্জন করেছেন। চলতি বছরের জুনে তিনি এ ভিসা পান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তারেক আমিন প্রতিষ্ঠিত ‘কালনী আর্ট স্টুডিও’ একটি পুনর্মিলনী ও শিল্পোদ্যোগের আয়োজন করে ভিসা প্রাপ্তির অর্জনকে আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা’ শিল্প ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারকা বা উদীয়মান তারকাদের প্রদান করা হয়। শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগের আবেদনকারীদের তাদের পেশাগত কাজ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং নিজ ক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। যুক্তরাজ্যে তারেক আমিনের একটি শিল্প প্রদর্শনীর পর তিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়ে গ্লোবাল ভিসার জন্য মনোনীত হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা তারেক আমিন ‘ফ্রি-ল্যান্সার আর্টিস্ট’ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের মন্ডলপুর গ্রামে।
বাংলাদেশের সমকালীন প্রিন্টমেকিং শিল্পের তিনি একজন স্বতন্ত্র শিল্পসত্তা। রেখা, মানুষ, স্মৃতি, অস্তিত্ব ও অনুভূতির গভীরে প্রবেশ করে তার শিল্পচর্চা তৈরি করেছে নিজস্ব একটি ভাষা। পাশাপাশি তিনি ‘লোকগানের জীবন্ত মহানায়ক’ খ্যাতির ক্বারি আমির উদ্দিন আহমদের একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত। সুফি ধারার ‘আমিরী সংগীত’ চর্চায় তারেক আমিন তার গানেরও আধুনিকায়নে কাজ করছেন।
তরুণ্যের সময়ে শিল্পজীবনে তারেক আমিন অর্জন করেছেন একাধিক জাতীয় পুরস্কার। পরপর দুই বছর ২১তম ও ২২তম শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তারেক অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রদর্শনীতে।
২০২৫ সালে লন্ডন ও বার্মিংহামে তার একাধিক প্রদর্শনী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আর্ট উৎসবে অংশগ্রহণ তার শিল্পচর্চাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও দৃশ্যমান করে।
এছাড়া তার শিল্পকর্ম যুক্তরাজ্য, জাপান, ভুটান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশেও প্রদর্শিত হয়েছে। Woodcut ও Pencil Sketch-এর মতো মাধ্যমকে অবলম্বন করে তারেক আমিন শিল্পের অনুভূতি প্রকাশের শক্তিশালী ভাষায় পরিণত করেছেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন