প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩১
যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ছে ভিসার আর্থিক শর্ত। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা প্রমাণে আগের চেয়ে বেশি অর্থ দেখাতে হবে। লন্ডন ও লন্ডনের বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা হারে এ অর্থ নির্ধারণ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসের জন্য অতিরিক্ত ৪১ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে অবস্থানকারীদের ৩২ পাউন্ড বেশি দেখাতে হবে। সর্বোচ্চ নয় মাসের হিসাব ধরে লন্ডনের শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩৬৯ পাউন্ড এবং অন্য এলাকার শিক্ষার্থীদের ২৮৮ পাউন্ডের আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসার জন্য নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার অর্থ মূলত শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির কোনো সম্পর্ক নেই। শিক্ষার্থীদের কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ (সিএএস) নথিতে উল্লেখ থাকা বকেয়া শিক্ষাব্যয়ও আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি এবং অভিবাসন স্বাস্থ্য সারচার্জও আলাদা খরচ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাই আবেদন করার আগে সব ধরনের ব্যয় হিসাব করে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩০ নভেম্বর বা এর পরে জমা দেওয়া ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন আর্থিক শর্ত কার্যকর হবে। তবে এর আগে আবেদন করলে পুরোনো নিয়মেই আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৫ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২৪ শতাংশ।
এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে আসেন প্রায় ৬৩ হাজার ৬০০ জন। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে ভর্তি হন প্রায় ৬ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী।
চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের ডিন অধ্যাপক পদম সিমখাদা বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও উচ্চশিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তার উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ৪ হাজার ১৯০ কোটি পাউন্ড অবদান যুক্ত হয়। এতে নিট আর্থিক সুবিধা ছিল ৩ হাজার ৭৪০ কোটি পাউন্ড।
প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কাজের সীমিত সুযোগ এবং পড়াশোনার চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে দৈনন্দিন খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রোহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি নিতে যুক্তরাজ্যে যাওয়া সৃষ্টি বোহোরা জানান, সেখানে কাজ পাওয়া কঠিন। সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করেও খাবার ও আবাসনের খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি পরিশোধের জন্য তাকে নেপাল থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর.কম
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন