প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫৪
জুলাই আন্দোলনে ছাত্র সমাজের সাহসী ভূমিকা ছিল বেশি ও অপ্রতিরোধ্য
জুলাই আন্দোলনে ছাত্র সমাজের সাহসী ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি ও অপ্রতিরোধ্য। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাগত নাগরিক ও অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক কর্মীরাও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। আমরা বিভাজনের রাজনীতি করতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করি ৫ আগস্টের শিক্ষা হলো ঐক্য, দায়িত্বের এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার শিক্ষা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল এসব কথা বলেন। বুধবার বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহিদ পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
.jpg)
বক্তব্যে এমপি নুরুল বলেন, এই দিনটি শুধু একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ, অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতীক। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে জুলাই শহীদদের স্মরণ করেন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের রক্ত দিয়ে ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় লিখেছেন। এসময় ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, কোনো পরিবর্তন হঠাৎ করে আসে না, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথ তৈরি হয়। জুলাই—আগস্ট ২০২৪—এর গণঅভ্যুত্থান ছিল মানুষের ১৭ বছরের জমে থাকা ক্ষোভের আকাঙ্ক্ষিত বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা ও বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে মানুষের মনে অসন্তোষ বাড়ছিল, যার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছিল আন্দোলনে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর গণহত্যা চালানো হলেও অবশেষে ৫ই আগস্ট ছাত্র—জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আন্দোলন চলাকালীন দলীয় পরিচয় ব্যবহার না করায় বিএনপির ব্যানার উঠে আসেনি। ১৬ই জুলাই ২০২৪ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারেক রহমান এক দফা দাবি তুলে ধরেছিলেন এবং লন্ডন থেকেও নিয়মিত দিক—নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ আন্দোলনে বারুদ ঢেলে দিয়েছিল।
.jpg)
এমপি নুরুল আরও বলেন, সরকার বিশ্বাস করে যারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়াতে হবে। আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শহীদ পরিবারের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। প্রকৃত ত্যাগীদের স্বীকৃতি দিতে একটি সঠিক ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করিয়ে দেন, রাষ্ট্র জনগণের জন্য এবং সরকার জনগণের সেবক, ক্ষমতা কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পদ নয়। এই বিশ্বাস থেকে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে কাজ করছে।
.jpg)
এদিকে দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশু একাডেমিতে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৫ দিনব্যাপী আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, শিশুপার্ক ও ঐতিহ্য জাদুঘরে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু পরিবারগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন