সরকার প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২৫

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা

সরকারের জন্য জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে কাজ করছে। সংকট থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এ কাজ শেষ করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। এ সময় দিতে হবে। জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কূপ খনন হলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে। সেক্ষেত্রে দুই বছর সময় দরকার।

 


শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৬—২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালায় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগ দরকার। সেক্ষেত্রে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা সরকারের আছে। তাই  মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে সরকার।

 


বর্তমানে দৈনিক জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের চেয়ে দ্বিগুণ জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, বছরের এই সময়ে চাহিদা অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় বেশি থাকে। সেজন্য সংকট দৃশ্যমান হয়েছে। 
এর আগে সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর কনফারেন্স রুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় ২০২৬—২০২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও এক ফসলি জমিকে আবাদে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের চাষ বাড়াতে হবে। কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়ানোই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। 

 


মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পতিত ও এক ফসলি জমি রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হাওর ও নিম্নাঞ্চলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক জমি আবাদে আনা সম্ভব হবে। একইভাবে সেচের অভাবে যেসব জমি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অনাবাদি থাকে, সেখানে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব। জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খাল খনন একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। তিনি সিলেটে তরমুজ চাষের সাফল্যকে নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আগাম তরমুজ উৎপাদনের মাধ্যমে সিলেটের কৃষকরা দেশের বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

 


খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলসহ শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে। স্বল্প সময়ে বিট উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় একই জমিতে এর পাশাপাশি অন্য ফসলও চাষের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা যাচাইয়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, এলাকাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সরকারি সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কৃষি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সিলেটে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। 

 


তিনি বলেন, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ জনপদে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ কৃষিনির্ভর। তাই প্রতিটি কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ উৎপাদন ও রিটার্ন নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে খাদ্য, বিশেষ করে চালের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।

 


মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন ফসলে ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরাই কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন। তরমুজ, পেঁয়াজসহ নতুন ফসল চাষে যারা ঝুঁকি নিয়েছেন, তারা সাহসী কৃষক এবং তাদের দেখানো পথে সিলেটের কৃষিকে এগিয়ে নিতে হবে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সিলেটের কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

 


সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিন।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার