প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৪
সংগৃহীত
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালি আবাসিক এলাকায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারে চরম নৃশংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘাতকের প্রথমে ক্রোধের শিকার গৃহকর্মী তাহমিনার গলায় ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছাড়াও শরীরের ১৮টি স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে ট্রিপল মার্ডারের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডািস্ট্রর সাবেক পরিচালক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার তিনটি মরদেহের পোস্টমর্টেম হয়।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টের তথ্যে সুরাইয়া বেগমের ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা পাওয়া যায়। তার গলা ছাড়াও শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আব্দুস সাত্তারের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর তাহমিনার শরীরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ছিল। গলা, বুকসহ শরীরে মোট ১৮টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির সন্তানেরা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তারা দেশে ফিরলে শুক্রবার (১২ আগস্ট) সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির মরদেহ দাফন হয়।
বৃহস্পতিবার গৃহকর্মী তাহমিনার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল খুনের দায় স্বীকার করে পুলিশকে বলেছেন, গৃহকর্মী তাহমিনার প্রতি ক্রোধ থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধারণ করা একটি ভিডিওতে ঘটনাটিকে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ বলে বাবুল বলেন, ‘মেয়েটারে (তাহমিনা) মারতে গেছিলাম। তারে মারছি। পরে চাচি দেখছে, চাচিরে মারছি। চাচাও আইছে। চিল্লাইছিল, চাচারেও মারছি। ঘটনাটা অ্যাক্সিডেন্ট স্যার...।’
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নিহতদের দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।
সূত্র: খবরের কাগজ.কম
সিলেট থেকে আরো পড়ুন