শরীরের যে ৭ পরিবর্তন অবহেলা করা উচিত নয়

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৮

সংগৃহীত ছবি 

শরীরের বড় কোনো দুর্ঘটনা বা তীব্র ব্যথায় আমরা দ্রুতই চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাই। কিন্তু শরীর আমাদের প্রতিদিন নীরবে কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়, যা আমরা ‘সামান্য বিষয়’ ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এই সাধারণ লক্ষণগুলোই হতে পারে শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধা কোনো জটিল রোগের নীরব পূর্বাভাস।

 

এমনই ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে চলুন জেনে নিই।

 

১. অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন হ্রাস

 

খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন না আনার পরও যদি হঠাৎ শরীরের ওজন কমতে থাকে, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, পুষ্টি শোষণে বাধা কিংবা ম্যালঅ্যাবসর্পশনের মতো সমস্যা এর পেছনে থাকতে পারে। ছয় মাসের মধ্যে শরীরের মোট ওজনের ৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে যাওয়া ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগেরও ইঙ্গিত হতে পারে।

 

২. অতিরিক্ত জ্বর

 

জ্বর মূলত ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের লড়াইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও যদি ১০২ বা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর ওঠানামা করে, তবে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। যক্ষ্মা, মারাত্মক মূত্রনালির সংক্রমণ কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও দীর্ঘদিন জ্বর থাকতে পারে।

 

৩. বিনা কারণে শ্বাসকষ্ট

 

ব্যায়াম করা বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার পর হাঁপিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তা আর অবহেলা করা যায় না। ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা (পালমোনারি এমবোলিজম), অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, প্যানিক অ্যাটাক বা হৃদ্‌রোগের মতো গুরুতর সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে এই শ্বাসকষ্ট।

 

৪. মলত্যাগের স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাঘাত

 

পেটের ভেতরে সব ঠিক আছে কি না, তা বোঝার অন্যতম উপায় হলো মলত্যাগের ধরন। মলের রং কালো বা রক্তযুক্ত হওয়া, দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, ইরিটেবল বাওয়েল ডিজিজ এমনকি কোলন ক্যানসারেরও ইঙ্গিত হতে পারে।

 

৫. আচমকা মন বা মেজাজের পরিবর্তন

 

হঠাৎ করে চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যাওয়া, মনোযোগে তীব্র ঘাটতি বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে কেবল ‘মানসিক ক্লান্তি’ ভেবে উড়িয়ে দেবেন না। শরীরে বড় কোনো সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি কিংবা স্নায়বিক সমস্যার কারণে মস্তিষ্ক এভাবে সাড়া দিতে পারে।

 

৬. অল্প খেলেই পেট ভরা মনে হওয়া

 

দু-এক লোকমা খাওয়ার পরই যদি মনে হয় পেট একেবারে ভরে গেছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘আর্লি স্যাটাইটি’ বলা হয়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। পেপটিক আলসার, জিইআরডি কিংবা পাকস্থলীর অন্যান্য সমস্যার কারণে এমন অনুভূতি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যান্সারের মতো গুরুতর সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে এটি।

 

৭. চোখের সামনে আলোর ঝলকানি

 

চোখের সামনে আলোর বিন্দু বা চকমকে ঝলকানি দেখা অনেক সময় সাধারণ মাইগ্রেনের কারণে হলেও এটি ‘রেটিনাল ডিটাচমেন্ট’-এর লক্ষণ হতে পারে। চোখের ভেতরের রেটিনা স্থানচ্যুত হলে এমনটা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই সমস্যা স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণ হতে পারে।

 

 

আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা করা ঠিক নয়। তাই শরীরের এসব সূক্ষ্ম পরিবর্তন খেয়াল করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে যে কোনো বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

 

 

উপরে বর্ণিত সাতটি লক্ষণের যে কোনো একটি আপনার শরীরে দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
সূত্র: কালবেলা .কম
এমডি

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার