প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৪
সংগৃহীত ছবি
অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২৭১ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ-এ প্রকাশিত এক বৈশ্বিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে অন্যের সিগারেট বা তামাকজাত পণ্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শে ছিলেন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ‘সুস্থ জীবনবর্ষ’ (হেলদি লাইফ ইয়ার) হারিয়েছে মানুষ।
গবেষকরা ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরোক্ষ ধূমপানের বৈশ্বিক প্রভাব মূল্যায়ন করেন।
কমেছে হার, কিন্তু কমেনি আক্রান্তের সংখ্যা
গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক দশকে বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের হার প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে। তবে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশু
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সি প্রায় ৭৬ কোটি ৭০ লাখ শিশু পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে এর ফলে প্রায় ৫২ লাখ নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে করোনারি হৃদরোগ।
এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি পরিমাণে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়ার কিছু এলাকায় নারীদের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত বেশি।
গবেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা ঘরের ভেতরে ধূমপান করেন, আর নারীদের ধূমপানের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণের আহ্বান
গবেষণার লেখকরা সতর্ক করে বলেছেন, তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। তারা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি কমাতে সরকারগুলোকে ঘরবাড়ি ও জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যমান আইন কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন