প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৩
সংগৃহীত ছবি
গলা ব্যথা শুধু শীতকালেই হয়—এমনটা নয়। বছরের যেকোনো সময় এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় গলা ব্যথা, খুসখুসে ভাব বা অস্বস্তিতে অনেকেই ভোগেন। হালকা ধরনের গলা ব্যথা হলে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-
গরম বা ঠান্ডা পানীয়
গরম চা, লেবু মেশানো উষ্ণ পানি কিংবা চিকেন স্যুপ গলার অস্বস্তি কমাতে এবং শ্লেষ্মা পাতলা করতে সাহায্য করতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি বা বরফের টুকরো গলার ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে বেশি আরাম দেয়। তাই কোন ধরনের পানীয় আপনার জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক, তা দেখে নিতে পারেন।
মধু
মধু গলার ওপর একটি পাতলা আস্তরণ তৈরি করে অস্বস্তি ও কাশি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এতে জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করার কিছু গুণও রয়েছে। গরম চা বা লেবু-পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়। চাইলে এক চামচ মধুও খেতে পারেন। তবে বটুলিজমের ঝুঁকি থাকায় এক বছরের কম বয়সি শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।
লবণ-পানি দিয়ে গার্গল
উষ্ণ লবণ-পানি দিয়ে গার্গল করলে গলার ফোলাভাব কমতে পারে এবং জমে থাকা শ্লেষ্মা কিছুটা আলগা হয়। এটি গলার জীবাণু ও অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। তবে গার্গলের পানি গিলে ফেলা উচিত নয়। অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করাও ঠিক নয়, কারণ এতে গলা আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
আদা ও অন্যান্য ভেষজ
আদার মধ্যে প্রদাহ কমানোর এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করার কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আদা দিয়ে তৈরি চা গলার অস্বস্তি ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিভিন্নভাবে আদা ব্যবহার করা গেলেও কাঁচা আদা সবার জন্য আরামদায়ক নাও হতে পারে।
লেবু ও ভিটামিন সি
উষ্ণ লেবু-পানি গলায় জমে থাকা শ্লেষ্মা কিছুটা পাতলা করতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি লেবু থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। মধুর সঙ্গে উষ্ণ লেবু-পানি পান করলে গলায় আরাম পাওয়ার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও সহায়তা করতে পারে।
রসুন
কাঁচা রসুনে অ্যালিসিন নামের একটি উপাদান থাকে, যার জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কেউ কেউ গলা ব্যথার সময় রসুন চিবিয়ে বা অল্প সময় মুখে রেখে উপকার পেতে পারেন। তবে কাঁচা রসুনের স্বাদ ও ঝাঁজ অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন
গলা ব্যথা হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। গলার অস্বস্তি কমাতে থ্রোট লজেন্সও ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনে ঘাড়ে হালকা গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
কিছু মসলাদার খাবার, যেমন লবণ বা হলুদযুক্ত খাবার, লালা নিঃসরণ বাড়িয়ে সাময়িকভাবে গলার অস্বস্তি কমাতে পারে। তবে মসলাদার খাবারে কারও অস্বস্তি বাড়লে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।
সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ বা হালকা গলা ব্যথায় এসব উপায় কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, ক্রমশ বেড়ে গেলে, উচ্চ জ্বর দেখা দিলে, গিলতে সমস্যা হলে কিংবা গলায় সাদা দাগ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন স্ট্রেপ থ্রোটের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন