প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৫
আট মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ
সংগৃহীত ছবি
দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির অন্যতম প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ। অথচ একই সময়ে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে ৩.৮৩ শতাংশ। অর্থাত্ বাজারের সামগ্রিক সংকোচনের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে প্রায় তিন গুণ হারে। রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি পোশাকের গড় মূল্য হ্রাস এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর অগ্রগতি এ পরিস্থিতিকে আরো চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) এ চিত্র তুলে ধরেছে। বিএভির সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। অর্থাত্ এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১৫৭ কোটি ইউরো।
রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্যও কমেছে। গত বছরের প্রথম আট মাসে ইইউতে বাংলাদেশি পোশাকের প্রতি কেজির গড় মূল্য ছিল ১৪.৮৭ ইউরো। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩.৭৬ ইউরোতে। ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানির পরিমাণও কমেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জোটটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৬ হাজার ২৬৯ কোটি ইউরোর তুলনায় ৩.৮৩ শতাংশ কম।
বিএভির সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ২.৩৮ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭১ কোটি ইউরোতে। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৩.৪৫ শতাংশ, যদিও প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য কমেছে ১.০৪ শতাংশ।
ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪.৪৬ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ইউরোতে। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৫.১৩ শতাংশ। তবে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ১০.১১ শতাংশ। ফলে কম পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করেও দেশটির আয় বেড়েছে।
তবে আট মাসের সামগ্রিক চিত্রের মধ্যে আগস্টে ইইউর পোশাক আমদানিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে আমদানি মূল্য বেড়েছে ০.৭২ শতাংশ। যদিও আমদানির পরিমাণ কমেছে ০.৫৭ শতাংশ।
জানতে চাইলে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল ইত্তেফাককে বলেন, ‘ক্রেতাদের কম দামে পোশাক কেনার চাপ সব রপ্তানিকারক দেশের ওপরই রয়েছে। ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া ছাড়া অধিকাংশ দেশের পোশাকের ইউনিট প্রাইস কমেছে। চীনের আগ্রাসী বিপণন কৌশলের কারণে দেশটি বাজার পুনরুদ্ধারের সুযোগ বেশি কাজে লাগাচ্ছে। সামনে বাংলাদেশের রপ্তানিমূল্য ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অনেকটাই জ্বালানির দামের ওপর নির্ভর করবে।’
সূত্র: ইত্তেফাক .কম
এমডি
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন