চালের পানির ব্যবহারে কি নতুন চুল গজায়? যা বলছেন চিকিৎসক

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৪

সংগৃহীত ছবি 

সৌন্দর্যচর্চার দুনিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন দারুণ ট্রেন্ডে রয়েছে ‘রাইস ওয়াটার’ বা চালের পানি। ফেশিয়াল টোনার থেকে শুরু করে চুল লম্বা ও পুষ্টি জোগাতে—সব কাজেই সৌন্দর্যপ্রেমীরা এটি ব্যবহার করছেন। কিন্তু ভাইরাল হওয়া এই রূপচর্চার ট্রেন্ডের কতটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে? 

 

 

এ নিয়ে তথ্য ও কল্পনার ফারাক স্পষ্ট করতে কথা বলেছেন ভারতের বেঙ্গালুরুর ‘ডা. শ্বেতাস স্কিন সুত্র ক্লিনিক’-এর মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. শ্বেতা শ্রীধর। 

 

সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সাররা চুল লম্বা করার কার্যকরী উপায় হিসেবে চালের পানির প্রচার করে চলেছেন। কেউ এটি টোনার হিসেবে ব্যবহার করছেন, আবার কেউ চুল সুরক্ষায় সিরামের মতো এটি কাজে লাগাচ্ছেন। 

 

 

ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আনিসা সোজকাও চালের পানি টোনার হিসেবে ব্যবহার করে নিজে উপকৃত হওয়ার কথা শেয়ার করেছেন। পাশাপাশি, সর্বাধিক সুফল পেতে এটি ব্যবহারের সঠিক প্রক্রিয়াও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। 

 

চালের পানি কি সত্যিই চুল লম্বা ও ঘন করতে সাহায্য করে? 

 

ডা. শ্রীধরের মতে, চুলের পরিচর্যার ঘরোয়া উপাদান হিসেবে চালের পানি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, মূলত এতে থাকা স্টার্চ, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং সামান্য কিছু ভিটামিন ও খনিজের কারণে। তবে চালের পানি ব্যবহার করলে চুল দ্রুত লম্বা ও ঘন হয়—এই দাবির পেছনে জোরালো কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি চুলের সাময়িক সৌন্দর্য কিছুটা বাড়াতে পারলেও চুল বড় হওয়া বা নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে—এমন ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক রয়েছে। 

 

 

ডা. শ্রীধর বলেন, ‘চালের পানিতে ইনোসিটল নামক একটি কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে এটি চুলের ফাইবারের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।’ কিছু ল্যাবরেটরি গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইনোসিটল চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে স্ক্যাল্পে চালের পানি ব্যবহার করলে নতুন চুল গজায়, চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় কিংবা চুল পড়া বন্ধ হয়—এমন দাবি সমর্থন করার মতো পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রমাণ এখনো নেই। চালের পানির যেসব উপকারের কথা বলা হয়, তা মূলত বাস্তবসম্মত কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চেয়ে মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপরই বেশি নির্ভরশীল। 

 

চালের পানির প্রভাব 

 

ডা. শ্রীধরের মতে, ‘চালের পানি ব্যবহারের পর মানুষ চুলে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করে, তার একটি বড় কারণ হতে পারে এর মধ্যে থাকা স্টার্চ।’ স্টার্চ সাময়িকভাবে চুলের বাইরের আস্তরণকে ঢেকে দিতে পারে, যার ফলে চুল আরও মসৃণ ও পূর্ণাঙ্গ মনে হয় এবং চুল সহজে আঁচড়ানো বা সামলানো যায়।

 

 

তবে এটি একটি সম্পূর্ণ প্রসাধনীগত প্রভাব। এটিকে নতুন ফলিকল তৈরি হওয়া বা চুল বাড়ার গতি বৃদ্ধির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। কারণ চুলের দৈর্ঘ্য মূলত জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের প্রভাব, পুষ্টির মাত্রা, স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য এবং চুল ভেঙে যাওয়ার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। 

 

চালের পানি ব্যবহারের নেতিবাচক দিক 

 

অতিরিক্ত চালের পানি ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিকও থাকতে পারে। এর স্টার্চ এবং প্রোটিনের অবশিষ্টাংশ চুলে জমে গিয়ে চুল শক্ত, শুষ্ক বা রুক্ষ করে তুলতে পারে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ধরণের চুলের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। ডা. শ্রীধর জানান, ‘ঘরোয়া উপায়ে তৈরি ফারমেন্টেড বা গাঁজানো চালের পানি যদি সঠিকভাবে তৈরি বা সংরক্ষণ না করা হয়, তবে তা দূষিত হয়ে যেতে পারে।’ বিশেষ করে সংবেদনশীল স্ক্যাল্পের অধিকারীরা এতে অস্বস্তি বা ইরিটেশনের শিকার হতে পারেন।

 

 

ডা. শ্রীধর আরও বলেন, যাদের অতিরিক্ত চুল পড়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাদের ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে মূল সমস্যা কোথায় তা খুঁজে বের করা উচিত। শরীরে আয়রনের অভাব, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, প্রোটিনের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং স্ক্যাল্পের নানা সমস্যা চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

 

 

চুল পড়ার সুনির্দিষ্ট ধরণ বুঝতে এবং সঠিক কারণ অনুযায়ী প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বা পরামর্শ পেতে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। 
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার