প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৩
সংগৃহীত ছবি
মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস কিংবা কিছু শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেখা দিতে পারে অনিদ্রা। রাতে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, বারবার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া কিংবা পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থেকেও ঘুমের ঘাটতি অনুভব করা এ সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের তথ্য অনুযায়ী, কাজ, সম্পর্ক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা ঘুমের ব্যঘাত ঘটাতে পারে। এ ছাড়া ঘুমানোর সময় প্রতিদিন পরিবর্তন করা, রাতে ডিভাইস ব্যবহার করা, নিকোটিন বা অ্যালকোহল পান ঘুমের সমস্যা বাড়াতে পারে।
যেসব কারণে ঘুমের সমস্যা হয়
অনিদ্রার পেছনে শুধু মানসিক সমস্যাই দায়ী নয়। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ঘুমে ব্যঘাত ঘটাতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, হাঁপানি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসে বাঁধা সৃস্টিকারী সমস্যাও অনিদ্রার কারণ হতে পারে। উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যার সঙ্গেও ঘুমের ব্যঘাতের সম্পর্ক রয়েছে।
এ ছাড়া শোবার ঘরে অতিরিক্ত আলো, শব্দ কিংবা অস্বস্তিকর তাপমাত্রা ঘুমে ব্যঘাত ঘটাতে পারে।
ঘুমে নীল আলোর প্রভাব
মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছন্দ নিয়ন্ত্রণে মেলাটোনিন নামের হরমোনও ভূমিকা রাখে।
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকলে ঘুমের প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে। তাই শোবার আগে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ব্যবহার কমিয়ে শান্ত পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়।
২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিছানায় বই পড়ার অভ্যাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঘুমের মান তুলনামূলক ভালো ছিল। তবে ঘুমের মানের সঙ্গে আরও নানা বিষয় জড়িত থাকতে পারে।
ঘুমের আগে যা করতে হবে
ঘুমের সময় মাথায় নানারকম চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকলে শ্বাস প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগের অনুশীলন করা যেতে পারে। ধীরে ধীরে পাঁচ গুনে শ্বাস ছাড়ার পদ্ধতি কয়েক মিনিট ধরে অনুশীলন করা যেতে পারে।
শিথিল হওয়ার আরেকটি পদ্ধতি হতে পারে যোগ নিদ্রা। শুয়ে থেকে নির্দেশনা অনুসরণ করে শরীর শ্বাস প্রশ্বাস ও বিভিন্ন অনুভূতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এ অনুশীলন করা হয়।
ভেষজ চা ও ঘুমের ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা
ক্যামোমাইল ও ল্যাভেন্ডার চা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শিথিল হতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, মেলাটোনিন শরীরে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া একটি হরমোন, যা ঘুম ও জেগে থাকার চক্র নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
বাজারে প্রচলিত কিছু ঘুমের ওষুধে ডাইফেনহাইড্রামিন বা ডক্সিলামিনের মতো অ্যান্টিহিস্টামিন থাকে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে অন্য কোনো রোগ থাকলে কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: যুগান্তর .কম
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন