প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০৫
সংগৃহীত ছবি
ডায়েট মানেই কি প্রিয় খাবার চিরতরে বাদ দেওয়া? বিশেষ করে উপমহাদেশের সংস্কৃতিতে রুটি তো প্রতিদিনের প্রধান খাবারগুলোর একটি। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়েন। তবে আশার কথা হলো, ডায়াবেটিস মানেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়।
প্রখ্যাত পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জং’-এ প্রকাশিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, সঠিক আটার নির্বাচন এবং পরিমিত পরিমাণ বজায় রাখলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে অনায়াসে রুটি খাওয়া সম্ভব।
যে ধরনের আটা বেছে নেওয়া উপকারী
সাধারণ ও পরিশোধিত গমের আটা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিকল্প আটা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন:
যবের আটা: যবে রয়েছে বিটা-গ্লুকান নামের এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার। এটি হজম প্রক্রিয়া ও গ্লুকোজ শোষণকে ধীর করে দেয়, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে দারুণ সাহায্য করতে পারে।
লাল আটা: গমের তুষ বা খোসা অক্ষত রেখে তৈরি লাল আটা প্রক্রিয়াজাত বা সাদা আটার তুলনায় অনেক বেশি ফাইবার সরবরাহ করে।
অন্যান্য বিকল্প: জোয়ার, বাজরা, রাগি (ফিঙ্গার মিলেট) এবং ছোলার আটা-র মতো বিকল্পগুলোও বেশ উপযোগী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি মাত্র আটাই যে সবার রক্তে শর্করা পুরোপুরি স্থিতিশীল রাখবে, এমন কোনো নিশ্চিত গ্যারান্টি নেই।
পরিমাণ এবং খাওয়ার ধরন কেন জরুরি
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, শুধু কোন আটার রুটি খাচ্ছেন সেটাই শেষ কথা নয়; বরং আপনি কতটুকু খাচ্ছেন এবং কীভাবে রান্না করছেন সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখবেন, যেকোনো স্বাস্থ্যকর বা ফাইবারসমৃদ্ধ রুটিতেও কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রক্তের শর্করা বাড়াতে পারে।
তাই ছোট ও পরিমিত পরিমাণে রুটি খাওয়ার পাশাপাশি খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি এবং আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখা উচিত। এতে খাবারটি সুষম হয় এবং রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
সূত্র: যুগান্তর.কম
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন