ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলার জয় মেনে নিল বলসোনারোর দল

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৯

সংগৃহীত ছবি 

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ফলাফল মেনে নিয়েছে ফ্লাভিও বলসোনারোর লিবারেল পার্টি। 

 

সোমবার দলটি এ ঘোষণা দেয়। 

 

তবে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে নিজের হার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন।

 

মঙ্গলবার ৮১ বছরে পা দিতে যাওয়া লুলা প্রথম দফার ভোটে বলসোনারোর চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই জয় বামপন্থী সমর্থকদের রাজপথ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় করে তোলে।

 

 

রোববারের ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর চেয়ে প্রায় ৪৪ লাখ বেশি ভোট পেয়েছেন লুলা।

 

৪৫ বছর বয়সী ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো দেশটির সাবেক কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। নির্বাচনের দিন কয়েকটি শহরে পরিবহন সমস্যার কারণে লুলার অনুরোধে সারা দেশে ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়। এর পরপরই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন ফ্লাভিও।

 

 

ফ্লাভিও বলসোনারো এখনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে তার দল পরে এই অবস্থান থেকে সরে এসে আনুষ্ঠানিক ফল মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

 

সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, ‘সুপ্রিম ইলেকটোরাল কোর্ট (টিএসই) ঘোষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল আমরা স্বীকার করছি। তবে আমরা মনে করি, উত্থাপিত উদ্বেগগুলো ভারসাম্যপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যথাযথভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।’

 

 

প্রবল বৃষ্টির কারণে কিছু অঞ্চলে ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার সময় বাড়ানোর অনুরোধ ফ্লাভিও নিজেও জানিয়েছিলেন। তবে ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘নোংরা কৌশল’ বলে আখ্যা দেন।

 

 

রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্ন অবস্থানে থাকা বিভিন্ন দেশের নেতারা লুলাকে অভিনন্দন জানালেও বলসোনারো পরিবারের মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের সমালোচনা করেছেন।

 

 

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে নির্বাচনটি খুবই খারাপ মনে হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো পক্ষ নিইনি। তবে সত্যি বলতে, এটিকে আরেকটি কারচুপির নির্বাচন বলে মনে হয়েছে।’

 

সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ফ্লাভিও বলসোনারো বলেন, পুলিশ তাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। 

 

তিনি বলেন, ‘এখন আমাকে দেশ ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে।’

 

ফ্লাভিও বলসোনারো জানান, সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। 

 

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তার ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর একটি মন্তব্যের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

নির্বাচনের দুই দিন আগে একটি মার্কিন পডকাস্টে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, ‘আমার ভাই যদি জয়ী না হয়, তাহলে সে দেশ ছেড়ে চলে যাক— আমি তার পক্ষে।’

 

নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে এ মন্তব্য করেছিলেন এদুয়ার্দো।

 

ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে ব্রাজিলের পুলিশ। তার বাবাকে নিয়ে নির্মিত ‘ডার্ক হর্স’ নামের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের অর্থায়ন নিয়ে এ তদন্ত চলছে।

 

 

ফ্লাভিও বলেন, ‘দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। আমি আমার পাসপোর্ট জমা দেব এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করব।’

 

অন্য এক বিবৃতিতে ডানপন্থী এই প্রার্থী নিজেকে বিরোধী দলের নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবেও ঘোষণা করেন।

 

লুলার পুনর্নির্বাচনের প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিলের শেয়ারবাজারে প্রায় ১৭ শতাংশ দরপতন ঘটে। একই সময়ে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই বাজারে এ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

 

 

নির্বাচনী প্রচারের সময় লুলা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সামাজিক ব্যয় ও সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর সমালোচনা করে ফ্লাভিও অভিযোগ করেন, লুলা ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন অপব্যবহার’ করেছেন।

 

 

নির্বাচনে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর বামপন্থী শিবিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। রোববার রাতে লুলার বিজয় উদযাপনে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

 

৪২ বছর বয়সী আইনজীবী জুলিও ক্যানেলো এই জয়কে ‘গণতন্ত্রপন্থী সব শক্তির বিজয়’ বলে অভিহিত করেন।

 

এএফপিকে তিনি বলেন, ‘রাজপথে ও অনলাইনে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলেই এই জয় এসেছে।’

 

‘আর কখনোই বলসোনারো নয়’— এই স্লোগান সামনে রেখে লুলার নতুন উদ্যমে পরিচালিত নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার হার প্রথম দফার ২১ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে নেমে আসে।

 

 

রোববার রাতে উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশে লুলা বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় যে বিদ্রোহী তরুণেরা জেগে উঠেছিল, তাদের কাছেই আমি এই জয়ের জন্য ঋণী।’

 

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, রাশিয়া, চীন, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও কয়েকটি দেশ লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

 

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লাতিন আমেরিকার কয়েকটি ডানপন্থী সরকারও লুলার বিজয় মেনে নিয়েছে। 


কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা বলসোনারোর প্রতি সমর্থন জানালেও নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে জনগণ যখন তাদের মত জানায়, তখন সেই মতকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’

 

 

নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে ফ্লাভিও বলসোনারোর অবস্থান তার বাবা জইর বলসোনারোর ২০২২ সালের নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন জইর।

 

 

সেই ফলাফল নিয়ে উত্তেজনার জেরে লুলার শপথ গ্রহণের এক সপ্তাহ পর জইর বলসোনারোর শত শত সমর্থক সরকারি ভবনে হামলা চালান। 

 

তাদের দাবি ছিল, সামরিক বাহিনী যেন হস্তক্ষেপ করে।

 

লুলাকে ক্ষমতা গ্রহণ থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে অভ্যুত্থানচেষ্টার দায়ে জইর বলসোনারো বর্তমানে গৃহবন্দী অবস্থায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

 

বলসোনারোর মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও নির্বাচনী আদালতের প্রধান কাসিও নুনেস মার্কেস নির্বাচনের সফল আয়োজনের প্রশংসা করেছেন। 

 

ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও এর ফলে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র: বাসস .কম
এমডি

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার