প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৬
সংগৃহীত ছবি
রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি গ্রাহকদের জন্য আরেকটি বাড়তি ব্যয়ের ধাক্কা আসতে চলেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এলপিজি ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত গণশুনানি শুরু করতে যাচ্ছে। মূলত এলপিজির পুনর্নির্ধারিত মূল্য থেকেই এই অতিরিক্ত কমিশন আদায় করা হবে।
২০২১ সালের এপ্রিলে প্রতি মাসে এলপিজি ও এর দাম সমন্বয় প্রক্রিয়া চালুর পর এই প্রথমবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে কমিশন। চলতি মাসের শুরুতে ব্যবসায়ীরা কমিশন বাড়ানোর আবেদন জানানোর পর এই শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হলো।
যদিও গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক চড়া মূল্যে এলপিজি কিনতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। বিইআরসি গত সেপ্টেম্বরে প্রতি ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গ্রাহকদের অনেক ক্ষেত্রে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে।
এরপর গত ৪ অক্টোবর এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে প্রতি বোতলের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে খুচরা বাজারে এর দাম এখনো ২ হাজার ২০০ টাকার ওপরেই রয়েছে। দেশের এক কোটিরও বেশি এলপিজি গ্রাহককে বর্তমানে একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে অন্তত ১০ জন গ্রাহক, ৬ জন খুচরা বিক্রেতা, ২ জন পরিবেশক এবং ২ জন আমদানিকারকের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এই চিত্র পাওয়া গেছে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, আমদানিকারক ও বোতলজাত কোম্পানিগুলো পরিবেশকদের কাছে ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৪২ টাকায় বিক্রি করবে। এর সঙ্গে পরিবহন ও বিতরণ খরচ বাবদ ৫০ টাকা যোগ করে পরিবেশকেরা তা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ১ হাজার ৭৯২ টাকায় বিক্রি করবেন। সবশেষে খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা ধরে গ্রাহক পর্যায়ে সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ মূল্য দাঁড়ানোর কথা ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
কিন্তু বাজার ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পরিবেশকরা কোম্পানিভেদে প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৫০ টাকার বেশি দামে কিনছেন। এরপর নিজেদের ৫০ টাকার কমিশনের বিপরীতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মুনাফা রেখে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে অন্তত ২ হাজার ১০০ টাকায় তা বিক্রি করছেন। পরে খুচরা বিক্রেতারাও নির্ধারিত কমিশনের চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা ধরে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জ্বালানি খরচ, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা এই বাড়তি দাম রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরের চারজন পরিবেশক বিইআরসির কাছে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর আবেদন করেন। আবেদনগুলোতে পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, আমদানিকারক ও বোতলজাতকরণ কোম্পানিগুলো বিইআরসির নির্ধারিত দাম না মেনে মাসে একাধিকবার দাম সমন্বয় করে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদেরও বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে ও বিক্রি করতে হয়।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একজন এলপিজি পরিবেশক জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর পরিবেশকদের গুদামে ১ হাজার ৭৪২ টাকা দরে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয় না। নিজস্ব পরিবহনে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে গিয়ে অতিরিক্ত ৪০-৫০ টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া সিলিন্ডার পেতেও ২-৩ দিন অপেক্ষা করতে হয়।
লোডিং-আনলোডিং, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি রেটে সিলিন্ডার বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। তবে ওমেরা, বিএম, টোটাল ও আইগ্যাসের মতো কিছু কোম্পানি নির্ধারিত দামে দিলেও অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০ টাকা পর্যন্ত রাখছে বলে জানান ওই পরিবেশক।
সূত্র:কালবেলা .কম
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন