নেপাল প্রিমিয়ার লিগে কী চলছে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কেমন

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৫

সংগৃহীত ছবি 

কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে এখন ব্যাট-বলের লড়াই। সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন ১০ ক্রিকেটার। কেউ তরুণ, কেউ অভিজ্ঞ। কারও ব্যাটে রানবন্যা, কারও বোলিংয়ে উইকেটের দেখা। আবার কেউ এখনো নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।

 

 

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অভিযানটা কেমন কাটছে? কে আলো ছড়াচ্ছেন, কে খুঁজছেন নিজেকে? তার আগে একটু জেনে নেওয়া যাক, কেমন এই টুর্নামেন্ট।

 


আইসিসির স্বীকৃতি, তারকাদের মেলা


নেপাল প্রিমিয়ার লিগের যাত্রা শুরু ২০২৪ সালে। চলছে তৃতীয় আসর। তবে এবারের আসর আগের দুটির চেয়ে একটু আলাদা। কারণ, গত ১৬ অক্টোবর আইসিসির স্বীকৃতি পেয়েছে টুর্নামেন্টটি। নেপালের ক্রিকেটের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় খবর।

 

 

এবারের এনপিএলে তারকারও কমতি নেই। ডেভিড ওয়ার্নার, আন্দ্রে রাসেল, ডেভিড ম্যালান, মঈন আলী, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত মুখেরা খেলছেন। আছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানও।

 

 

আরেকটি নতুন সংযোজন ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস। অর্থাৎ আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার দলগুলোর আপিল করার সুযোগও থাকছে।

 

আট দলের লড়াই, ৩২ ম্যাচের টুর্নামেন্ট


এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। দলগুলো হলো বিরাটনগর কিংস, চিতওয়ান রাইনোস, জনকপুর বোল্টস, কর্নালি ইয়াকস, কাঠমান্ডু গুর্খাস, লুম্বিনি লায়ন্স, পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স ও সুদূরপশ্চিম রয়্যালস।

 

 

প্রতিটি দল লিগ পর্বে অন্য সাত দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। অর্থাৎ লিগ পর্বে ম্যাচ ২৮টি। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল উঠবে প্লে-অফে। সেখানে কোয়ালিফায়ার-১, এলিমিনেটর, কোয়ালিফায়ার-২ ও ফাইনাল মিলিয়ে আরও চার ম্যাচ।

 

 

সব মিলিয়ে ৩২ ম্যাচের আয়োজন। লিগ পর্ব চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। ১৭ নভেম্বর প্রথম কোয়ালিফায়ার, ১৮ নভেম্বর এলিমিনেটর, ১৯ নভেম্বর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। আর ফাইনাল ২১ নভেম্বর। সব ম্যাচের ঠিকানা কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড।

 

বাংলাদেশিদের মধ্যে আরিফুলের আলো বেশি


এবারের এনপিএলে বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটার খেলছেন। তরুণ আরিফুল ইসলাম, জিশান আলম, রিপন মণ্ডলদের সঙ্গে আছেন সাকিব আল হাসান, সাইফ হাসান ও মেহেদী হাসানের মতো পরিচিত মুখেরাও।

 

 

তবে এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন আরিফুল ইসলাম। কর্নালি ইয়াকসের হয়ে তিন ম্যাচে তাঁর রান ১১৯। সেটাও এসেছে ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইকরেটে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি আছেন তিন নম্বরে।

 

 

তাঁর ঠিক পরেই বাংলাদেশের আরেকজন। জনকপুর বোল্টসের হয়ে তিন ম্যাচে ১১২ রান করেছেন সাইফ হাসান। গতকালই খেলেছেন ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস। ব্যাট হাতে সাইফের এই পারফরম্যান্স তাঁকে রেখেছে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় ওপরের দিকে।

 

 

সাকিব আল হাসানের ব্যাটিংটা এখন পর্যন্ত ঠিক তাঁর নামের মতো হয়নি। পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ২৯ রান।

 

তবে বল হাতে কিছুটা স্বস্তি আছে। চার ম্যাচে নিয়েছেন চার উইকেট। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

 

একই দলের হয়ে খেলছেন মেহেদী হাসান। চার ইনিংসে তাঁর রান ৬৬। বল হাতে নিয়েছেন দুটি উইকেট।

 

সাইফ হাসানকে নিয়ে আলাদা করে বলতেই হয়। ব্যাট হাতে তিন ম্যাচে ১১২ রান। বল হাতে চার উইকেট। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত তাঁর পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ।

 

 

অন্যদিকে আকবর আলী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও রিপন মণ্ডলরা এখনো নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি।

 

এনপিএলের আসর এখনো শেষ হয়নি। সামনে লিগ পর্বের বাকি ম্যাচ, তারপর প্লে-অফ। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কারও জন্য এটি নিজেকে নতুন করে চেনানোর সুযোগ, কারও জন্য ফিরে আসার মঞ্চ।
সূত্র: প্রথম আলো .কম
এমডি

খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার