প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:১১
সংগৃহীত ছবি
ওজন কমাতে চাইলে দিনের শুরুটা হওয়া উচিত পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবার দিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাস্তায় দই, চিয়া সিডস ও ওটস রাখতে পারেন। এই তিনটি খাবারের সমন্বয় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।
ওটসে রয়েছে প্রচুর আঁশ, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান। এটি হজমের গতি কিছুটা ধীর করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দিতে পারে। ফলে বারবার ক্ষুধা লাগা কিংবা অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
অন্যদিকে, চিয়া সিডসে রয়েছে আঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি। পানির সংস্পর্শে এলে চিয়া সিডস ফুলে জেলির মতো আকার ধারণ করে। এতে খাবারের পর তৃপ্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি এটি অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও সহায়ক।
দই এই নাস্তায় প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে চিনি ছাড়া টক দই বা গ্রিক ইয়োগার্ট খেলে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়। দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
যেভাবে তৈরি করবেন এই সকালের নাস্তা
একটি পাত্রে আধা কাপ ওটস, আধা কাপ চিনি ছাড়া টক দই এবং এক টেবিল চামচ চিয়া সিডস নিন। এর সঙ্গে সামান্য দুধ বা পানি মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন। এরপর কয়েক ঘণ্টা কিংবা সারা রাত ফ্রিজে রেখে সকালে খেতে পারেন। স্বাদ বাড়াতে পরিমাণমতো আপেল, পেয়ারা বা কয়েক টুকরো বেরি যোগ করা যেতে পারে।
ওজন কমাতে কতটা কার্যকর?
এই নাস্তায় আঁশ ও প্রোটিন থাকায় দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। ফলে দিনের অন্যান্য সময়ে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমতে পারে। তবে শুধু এই খাবার খেলেই ওজন কমবে, এমন নয়।
ওজন কমানোর মূল শর্ত হলো প্রতিদিন শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম ক্যালরি গ্রহণ করা। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।
বিশেষ করে চিয়া সিডস ও ওটসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। কারণ এগুলো পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত খেলে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
তাই সকালের নাস্তায় দই, চিয়া সিডস ও ওটস রাখতে পারেন। তবে দ্রুত ওজন কমানোর প্রত্যাশা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন