শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে দিতে পারে স্মৃতিশক্তি, বলছে গবেষণা

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৮

সংগৃহীত ছবি 

শরীরে অতিরিক্ত ওজন শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, এটি মস্তিষ্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার সক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করতে পারে অতিরিক্ত ওজন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

 

 

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং নতুন তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত এসব পরিবর্তন ধীরে ধীরে ঘটে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।

 

 

গবেষকদের মতে, যাদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) বেশি, তাদের স্মৃতিশক্তি, সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা এবং নির্বাহী কার্যক্ষমতা তুলনামূলক দ্রুত কমে যেতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে মনোযোগ ধরে রাখা, পরিকল্পনা করা, কাজ গুছিয়ে নেওয়া এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এসব সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।

 

 

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে ৫০ বছরের বেশি বয়সি ৮ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষের ওপর টানা ২৪ বছর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।

 

বিএমআই বাড়লে বাড়ে স্মৃতিশক্তি কমার ঝুঁকি

 

গবেষণায় শরীরের ওজন ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার মধ্যে ধারাবাহিক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, বিএমআইয়ের প্রতিটি একক বৃদ্ধির সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার সক্ষমতা কমার গতি বেড়েছে। অর্থাৎ শরীরের ওজনে সামান্য পার্থক্যও দীর্ঘ মেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

গবেষণার অষ্টম বছরে এ সম্পর্ক সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজনের প্রভাব ছিল বেশি।

 

তবে গবেষণায় আশার কথাও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার গতি ধীর করা সম্ভব হতে পারে। এমনকি ওজন নিয়ন্ত্রণের সুফল মাত্র দুই বছরের মধ্যেই দেখা যেতে পারে।

 

 

গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার কলেজ অব পাবলিক হেলথের সহকারী অধ্যাপক সুহাং সং বলেন, ‘আমরা দেখেছি, মানুষ যদি নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তাহলে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তাদের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।’

 

 

তিনি আরও বলেন, সুস্থভাবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিএমআই এমন একটি ঝুঁকির কারণ, যা তুলনামূলক সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

অতিরিক্ত ওজন যেভাবে ক্ষতি করতে পারে মস্তিষ্কের

 

সাধারণত বিএমআই ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন গবেষণায় স্থূলতার সঙ্গে মস্তিষ্কের দুর্বল স্বাস্থ্যের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে অতিরিক্ত ওজন ঠিক কীভাবে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার সক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করে, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

 

 

বিজ্ঞানীদের ধারণা, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি রক্ত চলাচলে সমস্যা এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে। এসব পরিবর্তন একসঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি জ্ঞানীয় দুর্বলতা, আলঝেইমার রোগ ও অন্যান্য ধরনের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।   

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্থূলতার ব্যাপক বিস্তারের কারণে গবেষণাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, শুধু বিএমআইয়ের হিসাব ধরলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন স্থূলতায় আক্রান্ত।

 

 

তবে বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন, স্থূলতা নির্ধারণে শুধু বিএমআই যথেষ্ট নয়। কোমরের মাপ এবং অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় যুক্ত করলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষের আনুমানিক হার বেড়ে ৭৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

 

ওজন নিয়ন্ত্রণে মিলতে পারে মস্তিষ্ক সুরক্ষার সুযোগ

 

বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থূলতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৭০ লাখের বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। গবেষকদের ধারণা, ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

 

 

গবেষণাটি অতিরিক্ত ওজন সরাসরি স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়—এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ দেয়নি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখতে শরীরের ওজন একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

 

 

গবেষণার প্রধান লেখক সুহাং সং বলেন, ‘ডিমেনশিয়ার কোনো নিরাময় নেই। তাই এ রোগ প্রতিরোধে যেসব ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।’

 

 

গবেষণাটি জার্নাল অব নিউরোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার কলেজ অব পাবলিক হেলথের মেং হুয়ান সুং, ঝুও চেন, জানানি রাজভান্ডারি, গ্রেস ব্যাগওয়েল অ্যাডামস, মাহমুদ খান, ইয়ে শেন ও জিয়াও সুংসহ আরও কয়েকজন গবেষক অংশ নেন।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার