ঢাকা মুখে চোখ মারা

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৫ ২১:৩৭

মন খারাপ। মনের কী দোষ। ভালো থাকার দিনকাল তো এটা নয়। তবে মুখ দেখে আর বুঝার উপায় নেই কার মন খারাপ, কার যে ভালো। মুখোশাবদ্ধ মুখে মুখশ্রীর মূল্যটা শেয়ার মার্কটের দরপতনের মতো নিম্নমুখী। আর নাক মুখ যে সহজে মুক্ত হবে না সেটা প্রায় নিশ্চিত।

চাঁদবদন আড়াল করে আছে মুখোশ। হাসিমুখ, মুচকি হাসি, মুখভার, মলিন মুখ, মুখ ভেংচি, দাঁত কড়মড়, ঠোঁট উল্টানো, করুণ মুখ, মায়াবী মুখ, সলাজ মুখ, উজ্জ্বল মুখ সবই কেমন ঢাকা পড়ে আছে। মুখ দেখে মানুষ চেনা যায় বা দায়, এমন যুগ তাহলে শেষ। মুখোশের আড়ালে নিতান্ত পরিচিত জনদেরই  চেনা দায় হয়ে পড়েছে।

 


হঠাৎ দেখা সাক্ষাতে কথাবার্তা বলার পর মনে হয় ঠিক চিনলাম নাতো। না চেনার স্বীকারোক্তি এক ধরনের ব্যর্থতা। যতটুক পারা যায় নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে নেই। আর কি করে বলি, আপনি কে হে? বা আপনার মাস্ক খুলুন, দেখি। এখনকার সময়ে শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল আভরণ মাস্ক। পরিচিত জনও আধোচনা আধ—অচেনার রহস্যে আটকা পড়ে থাকে। অনেক গোলমেলে ব্যাপার, কতো না ঝক্কি, কেলেঙ্কারি কান্ড কারখানা। মাসীকে দিদি, বৌদিকে মাসী, কাকুকে দাদা হরহামেশা ঘটছে। মাস্কমুখে বেশি কথা অস্বস্থিকর। ফলাফল, অল্পেই হাঁপিয়ে ওঠা। আর কাছাকাছি  মাস্ক খুলে কথা বলা সেতো স্বাস্থ্যবিধির মারাত্মক লঙ্ঘন।

 


ভরসা চোখ। চোখের ভাষা। সে ভাষা বুঝতে হলে যথাযথ ব্যাকরণ জানা চাই। বিজ্ঞজনেরা বলেন— চোখের মত চোখ থাকা চাই। আরো কত কী। চোখ ঠারাঠারি সকলেরই কম বেশি রপ্ত। সহজ পাঠ প্রথম ভাগ। চোখ মারা, সেতো সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার। সংকট কালে এগুলি সিলেবাস থেকে ছেঁটে দিলেও চোখের অনেক কথা, অনেক ভাব। সবার পক্ষে এমন জটিল ভাষা আয়ত্ব করা কঠিন ব্যাপার। সহজবোধ্য গণপাঠ্য ব্যাকরণ এখনও রচিত হয় নি। আর বয়সী চোখে দূরদৃষ্টি, নিকট দৃষ্টি দুটোই সীমিত। কারো ছানি পড়া নেত্রের দৃষ্টি সংকুচিত। তাঁদের পক্ষে এমন জটিলতায় চোঁখ গলানো অনুচিত। যদিও ফ্যাকো সার্জারিতে নিজের দৃষ্টি সংকট দূর হয়ে বরং কিছু তীক্ষè হয়েছে  কিন্তু সমস্যাটা অন্যখানে। আমেরিকান ল্যান্সে বাংলা ভাবটা ঠিক আসেনা। সময়কালে তেমন চর্চা হয়নি বলে প্রয়োজনে চেষ্টা করতে দোষ কি। নাতনীর সঙ্গে সে চর্চাই চলছে।

 


চোখ অনেক কথা বলে আবার ডচোখ নিয়েও অনেকে অনেক কথা বলেন। কবি সাহিত্যেকেরা নারীর রূপ বন্দনায় অগ্রাধিকার দিয়েছেন চক্ষুকে। পটল চেরা চোখ, কাজল নয়না, টানা টানা চোখ, হরিণী চোখা, নীলাক্ষী, বিড়ালাক্ষী। চোখেই সাগরের গভীরতা, চোখেই খুজেছেন আকাশের নীল। এ ব্যাপারে পুরুষদের ক্ষেত্রে কার্পণ্যই রয়ে গেছে। বড়জোড় গোলাকার আয়ত নেত্র, বড় বড় চোখ, গান্ডুমার্কা লাল চোখ, কোটরাগত চোখ, ঢুলুঢুলু চোখ, ঘোলাটে চোখ। আকাশ সমুদ্র নেই। শূন্য, শুষ্ক হাহাকার কেবল। তা চোখ যে রকমই থাক দৃষ্টির হেরফের  হয়তো চোখের আকারআকৃতির সাথে তেমন স¤র্পকিত নয়। তবে ভাষা বুঝাটা কঠিন ব্যপার। আমাদের মতো বয়সী সময়ে সে চর্চা তেমন হয়নি।

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার