প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:২২
সংগৃহীত ছবি
প্রোটিনের অভাবকে অনেকেই ব্যাপক অবহেলা করেন। অনেকেই মনে করেন, অতিরিক্ত ওজন থাকলে তার আর প্রোটিনের ঘাটতি থাকে না। তবে ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগলেও প্রচুর পরিমাণে খাবার ও ক্যালোরি গ্রহণ করলেও তার প্রোটিন গ্রহণ অপর্যাপ্ত হতে পারে।
এমনটা ঘটার কারণ ক্যালোরি এবং প্রোটিন হলো পুষ্টির দুটি ভিন্ন পরিমাপ। একজন ব্যক্তির খাদ্যতালিকায় ক্যালোরির পরিমাণ বেশি এবং প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকতে পারে। বিশেষ করে যখন খাদ্যের একটি বড় অংশ পরিশোধিত শস্য, চিনি, ভাজা খাবার এবং অন্যান্য খাবার থেকে আসে তখন প্রোটিন গ্রহণ পর্যাপ্ত হয় না কিন্তু ওজন ঠিকই বাড়তে থাকে।
প্লেট ভর্তি খাবারেও প্রোটিনের অভাব থাকতে পারে
আমাদের বেশিরভাগের খাদ্যতালিকায় দেখা যায়, ভাত, রুটি এবং অন্যান্য শস্যভিত্তিক খাবার বেশি পরিমাণে থাকে। খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে, কিন্তু অনেক সময় প্রোটিনের ঘাটতি থেকেই যায়।
ডাল, দই, পনির, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, সয়াবিন, শিম, বাদাম এবং বিভিন্ন বীজ মূল্যবান প্রোটিন সরবরাহ করলেও বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসে এগুলোর পরিমাণ এবং গ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়। একজন ব্যক্তি দিনে তিন বেলা পেট ভরে খান ঠিকই কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চেয়ে কম প্রোটিন গ্রহণ করলে ওজন ধীরে ধীরে বাড়াতে পারে।
পেশীই বড় উদ্বেগের বিষয়
পেশী রক্ষণাবেক্ষণ, টিস্যু মেরামত, এনজাইম ও হরমোন উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রোটিনের একটি মৌলিক ভূমিকা রয়েছে। এই কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য শরীরের নিয়মিত অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ প্রয়োজন।
পেশী বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ক্রমাগত ভেঙে যায় এবং পুনর্গঠিত হয়। পর্যাপ্ত প্রোটিন, শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে মিলিত হয়ে, এই প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ আরও বাড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পেশীর ভর এবং শক্তি স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। ফলে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা অপর্যাপ্ত পুষ্টির কারণে এই প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হতে পারে। তাই, অতিরিক্ত ওজনের একজন বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে হ্রাসমান পেশীর ভরের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চর্বি থাকতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে প্রোটিনের ভূমিকা অপরিহার্য
ওজন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যালোরির উপরই বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু ক্যালোরির গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। ওজন কমানোর সময় পেশি রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং যথাযথ শারীরিক কার্যকলাপ ছাড়া হঠাৎ করে ক্যালোরি কমিয়ে দিলে চর্বির সঙ্গে সঙ্গে পেশীও কমে যেতে পারে।
তাই যারা স্বাস্থ্য উন্নত করার চেষ্টা করছেন, তাদের লক্ষ্য শুধু ওজন কমানোর দিকে নয় বরং পেশি, শক্তি এবং শারীরিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই পর্যাপ্ত পুষ্টি
অতিরিক্ত ওজন মানেই সুপুষ্টি নয়। উচ্চ ক্যালোরি গ্রহণ পর্যাপ্ত প্রোটিনের নিশ্চয়তা দেয় না। স্বাভাবিক শারীরিক ওজনও পর্যাপ্ত পুষ্টির নিশ্চয়তা দেয় না। পুষ্টিগত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ওজনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পেশী শক্তি, শারীরিক কার্যকলাপ, শারীরিক গঠন, বয়স এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সব আকারের শরীরেই প্রোটিনের অভাব দেখা দিতে পারে। এই সাধারণ সত্যটি উপলব্ধি করা গেলে পরিবারগুলো দৈনন্দিন খাবার গ্রহণের পদ্ধতি, চিকিৎসকদের পুষ্টি মূল্যায়ন এবং ওজন ব্যবস্থাপনা কর্মসূচী প্রণয়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন