প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৩ ০৫:২৯
বিলাত বলতে সাধারণত লন্ডনকেই বুঝানো হয় যদিও তার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বিদেশ। দেশ স্বাধীনের আগে হাতেগুণা কয়েকজন বিলাতী আমাদের শহরে ছিলেন। তারমধ্যে মরহুম আব্দুল আহাদ চৌধুরী (কুরিয়ারপার), মরহুম অহিদুজ্জামান চৌধুরী অহি (ষোলঘর), মরহুম সৈয়দ মফিজ (হাছননগর), আব্দুল হাসিম (তেঘরিয়া), লিয়াকত আলী (হাছননগর) প্রমুখ।
আজ থেকে অর্ধশতবর্ষ আগে (সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালে) আমি যখন প্রিয় শহর সুনামগঞ্জ ছেড়ে লন্ডন পাড়িজমাই তখনও শহরের প্রবাসীদের সংখ্যা ছিল হাতেগুণা। যেমন পেয়েছিলাম আমার চাচাতো ভাই বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার বখত সুভাষকে। দেখা হয়েছিল বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আ.ত.ম. সালেহ সাহেবের বোন সাহেদা বেগম মিনার সঙ্গে। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন— দেওয়ান সাহেরান, মাহ্বুব চৌধুরী, শাহজাহান চৌধুরী, মহিজামান চৌধুরী, আজহারুল ইসলাম সিপার সহ আরো মুষ্টিমেয় কয়েকজন। কিন্তু বিগত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য হারে ছাত্রছাত্রী বা পরিবার নিয়ে অনেক শহরবাসী বিলাতে এসেছেন। এখন আর প্রবাসকে প্রবাসই মনে হয়না। এখন বিলাতের এমন কোনো শহর নাই যেখানে সুনামগঞ্জের লোক পাবেন না। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের প্রবাসীদের সংখ্যা যদিও অধিক তবুও সুনামগঞ্জ শহরের লোকসংখ্যাও বিলাতে কম নয়। তারা স্ব স্ব জায়গা থেকে একটা ভালো অবস্থান করে নিয়েছেন। কেউ ব্যবসা, কেউবা চাকুরি করছেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
মহি জামান সুনামগঞ্জের নামে সুনাম তন্দুরী নাম দিয়ে রেস্টুরেন্টের ভাল ব্যবসা করছেন। যেমনটি করছেন ডিন্ তন্দুরী নামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন জনাব আব্দুল হাসিম ও তার সুযোগ্য সন্তান পারভেজ হাসিম। এদিকে লন্ডনের নামানুসারে লন্ডন প্লাজা নামে এ.লতিফ, জে পিসাহেবের সুউচ্চ অট্টালিকা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুনামগঞ্জ শহরে। তৌফিক দোলন, মনি দাস, কয়েস পিরজাদা, আব্দুল আজিজ, আবু তারেক চৌধুরী সাজু, আহমদ হাবিব মারুফ, বাবুল তালুকদার, আমীর হুসেন তালুকদার, তাজ উদ্দিন আহমদ ফরীদ, তানভীর গোলাম, সোহেল খান, কাউন্সিলার মোহাম¥দ হুসেইন, শেরজাহান রাজা, মিঠু পাল, মাসুম সালেহ্, রুহিত, মাজেদ হুসেন, নার্গিসি খান, খায়রুন সিদ্দিকি, সাহিন সামাদ, তুহিন কবির, এ.বি. রাজিব, শেলু, জেরিন, তন্ময়, ফাল্গুন, পাপরি রইস, রাজিব চৌধুরী, দোলা আহমদ, শিহাব উদ্দিন, তৌহিদ চৌধুরী টিপু, কুফতিয়া মারিয়া সিদ্দিকা, রিজওয়ানা বখত, সাহিন বখত, মেহেরাবজুন হাসিম, ফারজানা আখতার জুবি, মুর্শেদ আলী, আবিদা বেগম, সামারীন দেওয়ান, আজাদ, চুনু জামান সহ আরো অন্যান্য সুনামগঞ্জ শহরবাসী এক একজন গুডউইল এম্বেসাডার হিসাবে বিলাতে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন পেশায় যেমন— শিক্ষিকতা, একাউন্টিং, মিনিকেবিং, ড্রাইভিং, শেফ, কুক, ওয়েটার এমনকি সিভিল সার্ভিসেও কাজ করেছেন অনেকে। সুনামগঞ্জের সুনাম রক্ষার্থে, দেশের তথা নিজ শহরের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে উনারা সহায়ক হিসাবে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলছেন। শহরে নিজ নিজ বাসাবাড়ির উন্নয়নে, সমাজের উন্নয়নে, গরীব দুঃখীর বিপদে, বন্যাসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে, চ্যারিটির বিভিন্ন কর্মকান্ডে শহরের লন্ডন প্রবাসীরা এগিয়ে আসছেন।
সুনামগঞ্জ শহরের বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা শুধুু নামে অভিবাসী নন বরং প্রত্যেকেই দেশের এক অমূল্য সম্পদ। তারা যে শুধু লন্ডন বা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন তাও না। তাদের বিস্তৃতি এখন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে অন্যান্য মহাদেশেও বিস্তার লাভ করেছে। তাদের মেধা, অভিজ্ঞতা, অর্থ, সামর্থ, পারদর্শিতা, স্বপ্ন, বিনিয়োগ ইত্যাদি যেমন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে তেমনি নিজ শহরের সুনামও বিশে^র বিভিন্ন দেশে বৃদ্ধি করে চলছে। নন্ রেসিডেন্ট বাংলাদেশিদের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের এন.আর.বি. দের সংখ্যাও বেড়ে চলছে। প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ এন.আর.বি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাইতো সরকারও ৩০ ডিসেম্বরকে এন.আর.বি দিবস হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। আশা করি সুনামগঞ্জ শহরের এন.আর.বি দের একটা ডাইরেক্টারি প্রকাশ এবং তাদেরকে নিয়ে সুনামগঞ্জে ৩০ ডিসেম্বর এন.আর.বি দিবস পালন করার উদ্যোগ নিবেন ।
শহরের এন.আর.বি রা তাদের বিভিন্ন সমস্যা এইদিনে তুলে ধরতে পারবেন। সংশিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের একটা পথ বের করে তাদের সুনামগঞ্জের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে পারবেন। আসুন আমরা সবাই বিলাতবাসীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করে যাই।
লেখক: প্রবাসী কমিউনিটি লিডার ও ব্যবসায়ী।
বর্ষপূর্তি সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন