প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৮:৩২
সন্তানদের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করতে না পেরে অভিভাবকগণ দিশেহারা। তাহিরপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত বালকদের জন্য একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি শিফটে ৫৫ জনের বেশী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা যাবে না। এ কারণে তাহিরপুর উপজেলা সদরের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি ইচ্ছুক শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক দিশেহারা হয়ে ভর্তির আবেদনে সুপারিশ নিতে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি ইউএনও’র দপ্তরে দৌঁড়াচ্ছেন।
তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুল কামাল জানান, বিগত বছরগুলোতে ওয়ান শিফটের এ বিদ্যালয়ে প্রতি বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ১৪০ জন থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। হঠাৎ করে প্রতি শিফটে ৫৫ জনের বেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না সিদ্ধান্তের কারণে আমরা ৫৫ জনের বেশী ছাত্র ভর্তি করতে পারছি না। তিনি আরও জানান, বিগত বছরগুলোতে আমরা লটারির বাইরে অপেক্ষমান তালিকা থেকেও ছাত্রছাত্রী ভর্তি করেছি।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান জামালগড় গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক মিটু বর্মনের অভিভাবক নারায়ন বর্মন বলেন, আমরা হাওর এলাকার মানুষ। বহুকাল থেকেই তাহিরপুর সদরের ছেলে মেয়েরা তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আসছে। বালকদের জন্য সদরে আর কোন বিদ্যালয় না থাকায় বাধ্য হয়েই তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের ভর্তি করতেন। এ বছর হঠাৎ নতুন নীতিমালার কারণে লটারীর বাইরে কোন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হচ্ছে না। এতে করে তারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, তাহিরপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত ছেলেদের লেখাপড়ার জন্য তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। মেয়েরা ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য না হতে পারলে তারা পার্শ্ববর্তী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হতে পারে। কিন্তু ছেলেরা ভর্তি হতে না পারলে লেখাপড়া বন্ধ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এরমধ্যে বিত্তশালী যারা রয়েছেন, তারা জেলা শহরের স্কুলগুলোতে তাদের সন্তানদের ভর্তি করেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষাথীদের ভর্তির বিষয়ে সরকার নীতিমালা করে দেয়ার কারণে ৫৫ জনের বেশী ভর্তি করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট আলোচনা করেছেন। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কিছু করা যাবে না বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীর অভিবাভকগণ আবেদনে সুপারিশ নিতে আমার কাছে আসছেন। আমি নীতিমালার বাইরে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন