লিডিং ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫৯

জুলাই গণঅভ‍্যুত্থান দিবস পালন

জুলাই গণঅভ‍্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটিতে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা পরবর্তী দুপুর ১২টায় লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাগীব আলী ভবনের নিচতলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি প্রদান ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সন্মানিত করা হয়। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক‍্যাম্পাসে গ্র‍াফিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ‍্যোগে জুলাই বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

 


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন  সমাজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ দ্বিতীয়বার স্মরণ করছে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার আত্মত্যাগ যা আমাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের পথ খুলে দিয়েছে। তারা একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরির রাস্তা তৈরি করেছে, যাতে আশা, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়েছে।

 


তিনি বলেন, এদেশের  নাগরিকদের মানবাধিকার বারবার অস্বীকার করে স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছিল। সহিংসতা শাসনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। গত ২০২৪ এর জুলাই মাসে আমাদের ছাত্র সমাজ ও জনতা এই বাস্তবতা প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। বাংলাদেশের জনগণ অপরিসীম সাহসিকতার সাথে তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। তাই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করতে হবে। শেষে তিনি জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। সেইসাথে ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আগামী বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন।

 


সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বীর জুলাইযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাঁদের বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। জুলাই এর চেতনায় দেশ গঠন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ে কাজ করার আহবান জানান। সমাজ পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ  উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কোন কিছু অর্জনের চেয়ে সে অর্জন রক্ষা করা কঠিন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবীসমূহ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। পরিশেষে তিনি জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সফল হবে প্রত‍্যাশা রেখে শহিদ জূলাইযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

 


আলোচনায় মূখ্য আলোচক হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব‍্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর এবং বিশিষ্ট গবেষক ড. মো. আব্দুল হামিদ বলেন বলেন, কোন এক মিরাকলের মধ‍্য দিয়েই গণঅভ‍্যুত্থান ঘটেছিল এবং কি কারণে এমনটি হলো, তরুণরা কেন এ ই আন্দোলনে এলো তা আমাদেরকে ভাবায়। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আপামর জনসাধারণের নিজ নিজ যায়গা থেকে সবার নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে নারীদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের পূর্ববর্তী আন্দোলন সাধারণত শহর বা নগর কেন্দ্রিক হলেও জুলাই ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল সর্বপূরী। ছাত্রদের কোটা আন্দোলন থেকে প্রথমে ৯ দফা আন্দোলন, তারপর ১ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে সংঘটিত  গণঅভ‍্যুত্থানের পর তিনদিন বাস্তবে কোন সরকার ছিল না, কিন্তু  তরুণরা পাহারাদারের ভূমিকা নিয়ে দেশে শান্থি বজায় রেখেছে। তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলন এতই জোরালো ছিল যে একসময় ক্ষমতাশীলরা মনে করেন নিয়ন্ত্রণ তাদের বাইরে এবং দেশ ত‍্যাগ করেন, জন্ম হয় নতুন বাংলাদেশের। পরবর্তীতে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঠান্ডা মাথায় দেশের শান্তি বজায় রেখে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ‍্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এটি খুবই উল্লেখযোগ্য।

 


তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সবদল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কি পূরণ হয়েছে? গণভোট হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা কি পাচ্ছি? তাই বতর্মান সরকার জুলাই এর চেতনার মূল‍্যায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব‍্যক্ত করেন। তিনি জুলাইযোদ্ধা এবং বর্তমান সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে, সংঘাতে না জরিয়ে এবং একে অপরকে নাযেহাল এবং ব‍্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা না করে জুলাই এর স্পিরিটকে রক্ষার জন‍্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম। জুলাই আন্দোলনের শহিদরা শোষণের বিরুদ্ধে অকুতোভয় বীরের মতো লড়াই করে স্বাধীনতা ও ন‍্যায়ের প্রতি এক বৈপ্লবিক চেতনার জন্ম দিয়েছে। 

 


অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য প্রদান করেন ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান, ছাত্রকল‍্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণনে মধ‍্য থেকে ব‍্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের মধ‍্যে জুলাইযোদ্ধা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মো. সায়দুর রহমান কোহিনুর, জুলাই যোদ্ধা লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জুনেদ আহমেদ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান শান্ত।

 


লিডিং ইউনিভার্সিটির ইংরেজি  বিভাগের প্রভাষক আলী ওমরের সঞ্চালনায় জুলাই শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহিদ মিনহাজ আহমেদের ভাই জাকির আহমেদ বক্তব্য বলেন, জুলাই বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।  তিনি জুলাই আন্দোলনে বিশেষভাবে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর ভূমিকা তুলে ধরেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার জন‍্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিশেষে তিনি জুলাই শহিদ পরিবারদেরকে সম্মান প্রদান করার জন‍্য লিডিং ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 


অনূষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সময় আহত জুলাইযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন‍্য লিডিং ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে সিলেট নগরীর আখালিয়ায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালকে বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এসময় সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের পরিচালক ডা. তানবিরুজ্জামান লিডিং ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শত বাধার মধ‍্যেও জুলাইযোদ্ধাদের তারা চিকিৎসা দিয়েছেন। তখনকার স্মৃতি চারণ করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির যেন আর সৃষ্টি না হয়ে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিকভাবে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয় এ প্রত‍্যাশা করেন। 

 

 


লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ‍্যে বক্তব্য প্রদান করেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬৩ত ব‍্যাচের শিক্ষার্থী বুরহান উদ্দিন ও মাহদি নাবিদ এবং ৬৪তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী মো: জুবায়ের আহমদ। বক্তব্যে তারা লিডিং ইউনিভার্সিটির একটি ল‍্যাব বা গ‍্যালারী শহিদ ওসমান হাদির নামে নামকরণের প্রস্তাব করেন।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জামিউর রহমানের পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত পরবর্তী জাতীয় সঙ্গীতের মধ‍্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণসহ জুলাই আন্দোলনের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। জুলাই শহিদদের স্মরণে অনুষ্ঠানে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক -শিক্ষাথী এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জিয়াউর রহমান।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার