বিসিএস ও চাকরির প্রস্তুতি ১০ ঘণ্টা নয়, প্রতিদিন এই ৫ ঘণ্টা কাজে লাগান

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৭

সংগৃহীত ছবি 

সকাল আটটায় পড়ার টেবিলে বসলেন। সামনে বইয়ের পাহাড়, পাশে খাতা আর গরম চায়ের কাপ। নোটিফিকেশনের তাড়া এড়াতে সাইলেন্ট মোবাইলটি উল্টো করে রাখলেন। টানা পড়ার পর চোখ তুলে ঘড়িতে দেখলেন বেলা একটা বাজছে।

 

 

টানা পাঁচ ঘণ্টা কেটে গেল! কিন্তু নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন তো—বাস্তবে পড়া হলো কতটুকু?

 

এই প্রশ্ন শুনলেই অধিকাংশ বিসিএস পরীক্ষার্থী একটু ইতস্তত করেন। কারণ, বই খুলে টেবিলের সামনে বসে থাকা আর প্রকৃতপক্ষে কোনো বিষয় আয়ত্ত করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।

 

 

বর্তমানে বিসিএসের নিয়মিত সার্কুলার ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন ব্যাচে যাঁরা প্রস্তুতি শুরু করছেন, তাঁরা অনেকেই একটি সাধারণ ভুলে পা দেন। ভাবেন, ‘পরিচিত অমুক তো দিনে ১২ ঘণ্টা পড়ে, আমাকেও অন্তত ১০ ঘণ্টা টেবিলে পড়ে থাকতে হবে।’

 

 

তবে প্রশ্নটা ঘণ্টার হিসাব নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হলো আপনি কি ১০ ঘণ্টা অলসভাবে বইয়ের পাতায় চোখ বোলাবেন, নাকি প্রতিদিন মাত্র ৫ ঘণ্টা পুরোপুরি মন দিয়ে কার্যকরভাবে শিখবেন? দিন শেষে ঘড়ির কাঁটার চেয়ে মনোযোগের গভীরতাই নির্ধারণ করে আপনার সফলতা।

 

প্রতিদিনের প্রস্তুতিকে নিখুঁত করতে নিচের পাঁচ ঘণ্টার বিশেষ রূপরেখাটি মেনে চলতে পারেন:

 

প্রথম ঘণ্টা: নতুন কিছু শেখার ধুম

 

দিনের প্রথম ঘণ্টাটি বরাদ্দ রাখুন সম্পূর্ণ নতুন কোনো অধ্যায় বা বিষয়ের জন্য। বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি সাহিত্য, গণিত কিংবা আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি—যেকোনো একটি বিষয় বেছে নিন। তবে একই দিনে একাধিক বিষয়ের জটলা পাকাবেন না। লক্ষ্য স্থির করুন, যেমন আজ শুধু সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলো আত্মস্থ করবেন। পড়ার লক্ষ্য যত স্পষ্ট হবে, মস্তিষ্কের জন্য তা গ্রহণ করা ততটাই সহজ হবে।

 

দ্বিতীয় ঘণ্টা: বই বন্ধ করে স্মৃতির পরীক্ষা নিন

 

এটি পুরো প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক ঘণ্টা নতুন বিষয় পড়ার পরপরই বইটা বন্ধ করে ফেলুন। এবার নিজেকে পরীক্ষা করার পালা—ঠিক কী শিখলেন? গুরুত্বপূর্ণ সাল, সংজ্ঞা বা উপাত্তগুলো না দেখে খাতায় লিখতে পারছেন কি?

 

 

শিক্ষাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সক্রিয় স্মরণ অনুশীলন’ (অ্যাকটিভ রিকল)। আমরা সাধারণত মনে করি, বারবার বইয়ের পাতায় চোখ বোলালেই বুঝি পড়া মনে থাকে। কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। যুক্তরাষ্ট্রের পারডিউ ও ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এক যৌথ গবেষণা অনুযায়ী (সায়েন্স জার্নাল, ২০০৮), সাধারণ নিয়মে বারবার বই পড়ার চেয়ে বই বন্ধ করে স্মৃতি থেকে তথ্য অন্বেষণ করার অনুশীলনে পড়া মনে রাখার হার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তাই পড়া শেষে বই খোলা রেখে রিভিশন না দিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে স্মৃতির উত্তর খুঁজে বের করা অনুশীলন করুন।


তৃতীয় ঘণ্টা: বিগত বছরের প্রশ্নের মুখোমুখি

 

বিসিএস কেবল জ্ঞান অর্জনের পরীক্ষা নয়, এটি প্রশ্ন চেনারও কৌশল। এই এক ঘণ্টায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন। ভারতের ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ২০২৪ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হওয়া শক্তি দুবেও আগের বছরের প্রশ্ন সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেছেন, প্রশ্নপত্র পরীক্ষার ধরন বুঝতে ও প্রস্তুতি ঠিক করতে সাহায্য করে। তাঁর গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রস্তুতিতে শর্টকাট নয়, বরং ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।

 

চতুর্থ ঘণ্টা: নিজের দুর্বলতার সঙ্গে আড্ডা দিন

 

পরীক্ষায় প্রশ্ন সমাধান করতে গিয়ে কোনগুলোতে ভুল হলো, সেগুলো এবার লাল কালিতে চিহ্নিত করুন। গণিতে কি সময় বেশি লাগছে, নাকি সাধারণ জ্ঞানের সালগুলো গুলিয়ে যাচ্ছে?

 

 

এই ঘণ্টাটি নতুন কিছু পড়ার জন্য নয়, বরং নিজের পুরোনো ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সময়। মনে রাখবেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার খাতায় অন্য প্রার্থীরা যা পারে, আপনিও তা-ই পারবেন; কিন্তু জয়ী হবেন তখনই, যখন নিজের দুর্বল জায়গাগুলোকে শক্তিতে রূপান্তর করবেন।

 

পঞ্চম ঘণ্টা: দিনের পড়া ঝালিয়ে নিন

 

দিনের শেষ ঘণ্টাটি হবে পুরো দিনের পড়ার সারসংক্ষেপ বা রিভিশন। সকাল থেকে যা যা পড়লেন, তা একনজর দেখে নিন। ভুল প্রশ্নগুলো আরও একবার চর্চা করুন।

 

দিন শেষে রাতে ঘুমানোর আগে নিজের কাছে তিনটি সহজ হিসাব দিন—আজ নতুন কী শিখলাম? কী ভুল করলাম? আর আগামীকাল কোনো বিষয়ের প্রস্তুতি শুরু করব? এই তিন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর থাকলে আপনার বিসিএস প্রস্তুতি আর কখনো এলোমেলো হবে না।

 

পাঁচ ঘণ্টা কোনো জাদুর সংখ্যা নয়

 

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার। প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা পড়লেই বিসিএস হবে—এমন কোনো গবেষণা নেই। কারও পাঁচ ঘণ্টা যথেষ্ট হতে পারে। কারও আরও বেশি সময় লাগতে পারে। আসল বিষয় হলো সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো।

 

 

১০ ঘণ্টা পড়েও যদি প্রতি আধঘণ্টায় মোবাইল দেখা হয়, তাহলে সেই ১০ ঘণ্টার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। আর পাঁচ ঘণ্টা যদি সত্যিকারের পড়া হয়? সেখানে হিসাবটা অন্য রকম।

 

 

বিসিএসের প্রস্তুতিতে তাই প্রশ্নটা হতে পারে—আজ কত ঘণ্টা পড়লাম, তা নয়; বরং আজ যে পাঁচ ঘণ্টা পড়লাম, তার কতটা আমার সঙ্গে থাকল?
সূত্র: প্রথম আলো .কম
এমডি

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার