প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৫
সংগৃহীত ছবি
উচ্চমাত্রার ব্যায়াম, বিশেষ করে স্বল্প সময়ের স্প্রিন্টভিত্তিক অনুশীলন, মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের তুলনায় হৃদ্যন্ত্র ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত করতে বেশি কার্যকর হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষকরা ‘কার্ডিওমেটাবলিক স্বাস্থ্য’ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছেন। এটি মূলত হৃদ্যন্ত্র, রক্তনালি এবং শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হৃদ্যন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সুস্থ রক্তনালি শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হরমোন ও রক্তে শর্করা পরিবহন এবং শরীরের বর্জ্য অপসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আগের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্বল কার্ডিওমেটাবলিক স্বাস্থ্য টাইপ-২ ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ এবং ফ্যাটি লিভারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে গবেষকদের মতে, জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে কার্ডিওমেটাবলিক স্বাস্থ্য উন্নত করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান পরিহার, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা।
সম্প্রতি সেল রিপোর্টস মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ব্যায়ামের তীব্রতা ও কার্ডিওমেটাবলিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার ব্যায়াম—বিশেষ করে স্প্রিন্ট ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং—মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের তুলনায় কার্ডিওমেটাবলিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচকে বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষকদের ভাষ্য, অল্প সময়ের তীব্র ব্যায়ামও উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা দিতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের তুলনায় এটি অনেকের জন্য কার্যকর ও সময়সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যায়ামের তীব্রতা অবশ্যই ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কোনো শারীরিক সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন