হাত-পা অবশ ও ঝিঁঝি ধরার সমস্যা যে ভিটামিন ঘাটতির লক্ষণ

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০৪

সংগৃহীত ছবি 

ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি একটি পরিচিত পুষ্টিজনিত সমস্যা। তবে অনেকেই শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে তা বুঝতে পারেন না। কারণ এর উপসর্গগুলো অনেক সময় খুব সাধারণ মনে হতে পারে অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। তাই সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলো সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কয়েকটি অবহেলিত উপসর্গ তুলে ধরেছেন। 

 

 

তিনি বলেন, এসব উপসর্গ দেখা দিলেই যে বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে, তা নয়। তবে ঝিনঝিন করা, জিহ্বার পরিবর্তন, ক্লান্তি, চিন্তাভাবনায় সমস্যা বা হাঁটার সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ঘাটতি নিশ্চিত করা সম্ভব। 

 

মসৃণ ও ব্যথাযুক্ত জিহ্বা

 

সাধারণত জিহ্বার উপরিভাগ কিছুটা খসখসে থাকে। এর কারণ হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাপিলা, যার মধ্যে স্বাদ গ্রহণের কুঁড়ি থাকে। কিন্তু জিহ্বা অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ, চকচকে, লাল বা ব্যথাযুক্ত হয়ে গেলে তা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

 

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব

 

স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ ভিটামিনের ঘাটতিতে শরীরের প্রান্তীয় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হাত-পায়ে দীর্ঘসময় ঝিনঝিনি, সুচ ফোটার মতো অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা অবশভাব অনেক সময় বি১২-এর ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

 

 

চিকিৎসকরা বলেন, স্নায়ুর মাইলিন আবরণ স্বাভাবিক রাখতে বি১২ প্রয়োজন। এর ঘাটতিতে বিশেষ করে পা থেকে শুরু করে অবশভাব বা অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি রক্তের অন্যান্য উপাদানের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও এসব স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

 

অকারণ ক্লান্তি

 

লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতেও ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতিতে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হতে পারে। ফলে শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট কিংবা স্বাভাবিক কাজ করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

 

স্মৃতির সমস্যা

 

সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র বজায় রাখার পাশাপাশি স্বাভাবিক স্নায়ু সংকেত আদান-প্রদানেও বি১২ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতিতে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, চিন্তার গতি ধীর হওয়া, ভুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি কিংবা মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অ্যানিমিয়া না থাকলেও এসব উপসর্গ হতে পারে।

 

ভারসাম্যহীনতা ও হাঁটতে সমস্যা

 

ভিটামিন বি১২-এর দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতিতে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কোন অবস্থানে রয়েছে, সে সম্পর্কে মস্তিষ্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া স্নায়ুপথ ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাঁটাচলায় সমস্যা হতে পারে।

 

 

 

চিকিৎসকদের মতে, এতে হাঁটার সময় অস্থিরতা, বারবার হোঁচট খাওয়া, অন্ধকারে হাঁটতে অসুবিধা কিংবা পা ফেলে চলার সময় অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।

 

তবে এসব উপসর্গের কোনোটি দেখা দিলেই যে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গগুলো একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার