দাঁতের স্বার্থে টুথপেস্ট কেনার আগে ৩টি বিষয় যাচাই করুন

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৩

সংগৃহীত ছবি 

বাজারে নানা ধরনের টুথপেস্ট পাওয়া যায়। কোনো টুথপেস্টে নুন, কোনোটি নিমযুক্ত। আবার মুখে সতেজ অনুভূতির জন্য মিন্টযুক্ত টুথপেস্টও ব্যবহার করেন অনেকে। ঠান্ডা-গরমে দাঁতের গোড়া শিরশির করার সমস্যা থাকলে রয়েছে সেনসিটিভিটি নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি বিশেষ মাজন। মুখের কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আলাদা ধরনের টুথপেস্টও ব্যবহার করা হয়।

 

 

কিন্তু সাধারণভাবে ব্যবহারের জন্য বাজারের এত ধরনের টুথপেস্টের মধ্যে কোনটি আপনার দাঁতের জন্য উপযোগী, তা বুঝবেন কীভাবে?

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্ট কেনার সময় বিজ্ঞাপনে দেখানো তারকা, আকর্ষণীয় মোড়ক কিংবা টুথপেস্টের রং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বরং কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা উচিত।

 

 

গুরুগ্রামের ক্যানসার চিকিৎসক ভরতিকা বিশ্বানীর মতে, বিজ্ঞাপনের আকর্ষণে প্রভাবিত হয়ে টুথপেস্ট বেছে না নেওয়াই ভালো। তাঁর বক্তব্য, আকর্ষণীয় মোড়ক বা চটকদার লেবেল থাকলেই কোনো টুথপেস্ট মুখের যত্নের জন্য সেরা—এমনটা নয়। অনেক সময় সাধারণ ও সাদামাটা পণ্যই বিজ্ঞানসম্মত দিক থেকে বেশি নির্ভরযোগ্য হতে পারে।

 

টুথপেস্ট কেনার আগে যে ৩ বিষয় দেখবেন

 

১. ফ্লোরাইডের পরিমাণ

 

দাঁতের এনামেল শক্তিশালী করতে এবং দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে ফ্লোরাইড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব কমাতে এবং খাবার ও চিনি থেকে তৈরি অ্যাসিডের আক্রমণ থেকে দাঁতকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

 

তাই সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের টুথপেস্ট কেনার সময় এতে প্রায় ১৩৫০–১৫০০ পিপিএম ফ্লোরাইড রয়েছে কিনা, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।

 

২. ‘চারকোল’ বা ‘এক্সট্রা হোয়াইটনিং’ লেখা দেখেই কিনবেন না

 

টুথপেস্টের গায়ে ‘চারকোল’, ‘ডিটক্স’ কিংবা ‘এক্সট্রা হোয়াইটনিং’ লেখা থাকলেই সেটি দাঁতের জন্য বেশি ভালো—এমন নয়।

 

দাঁত সাদা করার জন্য কিছু টুথপেস্টে সিলিকা বা ক্যালশিয়াম কার্বোনেটের মতো ঘষে পরিষ্কার করার উপাদান ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত ঘষনকারী উপাদানযুক্ত টুথপেস্ট দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত ব্যবহারে দাঁতের ক্ষয় কিংবা সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে। তাই শুধু ঝকঝকে সাদা দাঁত পাওয়ার আশায় অতিরিক্ত ঘষনকারী টুথপেস্ট বেছে নেওয়া উচিত নয়।

 

৩. এসএলএস আছে কিনা, সেটিও খেয়াল করুন

 

সোডিয়াম লরিল সালফেট বা এসএলএস অনেক টুথপেস্টে থাকা একটি ফেনা তৈরিকারী উপাদান। তবে টুথপেস্টে এসএলএস থাকলেই সেটি খারাপ—এমন ধারণা ঠিক নয়।

 

তবে যাদের মুখে বারবার আলসার হয় বা মুখ শুষ্ক থাকার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসএলএস-মুক্ত টুথপেস্ট বেশি আরামদায়ক হতে পারে। অন্যদের ক্ষেত্রে টুথপেস্টে এসএলএস থাকা সাধারণত বড় সমস্যা তৈরি করে না।

 

 

তাই টুথপেস্ট কেনার সময় শুধু বিজ্ঞাপন বা স্বাদের দিকে না তাকিয়ে উপাদানের তালিকা এবং ফ্লোরাইডের পরিমাণ দেখে পছন্দ করুন। দাঁত বা মাড়িতে নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে টুথপেস্ট পরিবর্তন না করে দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার