প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৭
সংগৃহীত ছবি
স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণে শুধু শরীরের ওজন বা বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) নয়, কোমরের মাপ ও শরীরে চর্বি কীভাবে জমেছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ১৫টি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য গবেষণার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাদের প্রায় ২০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিএমআই অনুযায়ী স্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ওজনের শ্রেণিতে থাকা অনেক মানুষের পেটের অংশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চর্বি জমা ছিল। বিশেষ করে যাদের কোমরের মাপ বেশি বা কোমর-নিতম্ব অনুপাত বেশি, তাদের বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ছিল।
গবেষকরা জানান, বিএমআই কেবল একজন মানুষের উচ্চতার তুলনায় ওজন পরিমাপ করে। তবে শরীরের কোন অংশে চর্বি জমেছে, সে বিষয়ে এটি কোনো তথ্য দেয় না। অথচ পেটের গভীরে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর চারপাশে জমা চর্বি শরীরের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।
এ ধরনের চর্বি প্রদাহ, ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রক্তনালির ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়নে শরীরে চর্বির বণ্টন বিবেচনা করা বিএমআইয়ের চেয়ে আরও কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যুসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বিএমআই তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হলেও পেটের চর্বি বেশি থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
তবে গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক কর্মকাণ্ড, খাদ্যাভ্যাস বা স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাদের কাছে ছিল না। এছাড়া কোমরের মাপ ও কোমর-নিতম্ব অনুপাত মাত্র একবার পরিমাপ করা হয়েছিল।
ফলে সময়ের সঙ্গে পেটের চর্বির পরিবর্তন হৃদরোগের ঝুঁকিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন