প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৫
সংগৃহীত ছবি
আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাদের যুক্ত করে দিল্লিতে ভারত সরকারের সেমিনারের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, উপযুক্ত সময় বা পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন। তবে এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসব ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’
গত ২৯ আগস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের নিয়ে দিল্লিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দিল্লি পুলিশ ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবকে (এফসিসি) এই অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’।
উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর আপাতত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। তবে একটি উপযুক্ত সময়ে অবশ্যই সফরটি হবে। পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে তারিখ ঠিক করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করিনি।’
এ সময় সাংবাদিকেরা যে আলোচনাটি (ভারতের সঙ্গে) স্থবির হয়ে গিয়েছিল, তা নতুন করে আবার শুরু বা সচল হলো কি না, জানতে চান। এটা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো তারিখ ঠিক না করা মানেই তো আর আলোচনা থমকে যাওয়া নয়।’ কোনো তারিখ নির্ধারণ না করলেও আলাপ-আলোচনা চলছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আলোচনার সময়ে ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল। আপনারা সবাই জানেন যে আমরা সেই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। এখন আবারও আমাদের আলোচনা চলছে।’
সন্ত্রাসী যেন দিল্লিতে আশ্রয় না পায়
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন দিল্লি কিংবা ভারতের কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়, সেই আশার কথা তিনি বলেন।
চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে
কোনো চাপের মুখে অথবা অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো চাপের কারণে নয়।’ এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশে এয়ারক্রাফট ফ্লিটের (বিমানের বহর) সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তা না হলে নতুন রুট চালু করা সম্ভব হবে না ও ব্যবসা হারাতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এভিয়েশন হাব হিসেবে রাজস্ব ও যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘ মেয়াদে এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে, নাকি প্রাথমিক আলোচনা– এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, ওয়াশিংটনের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আবার বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। তাই তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উড়োজাহাজ কেনাকাটা করা হবে।
আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগতভাবে বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সূত্র: প্রথম আলো.কম
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন